শেখ হাসিনার ‘গ্যাং অব ফোরে’ ছিলেন যারা

প্রথম পাতা » জাতীয় » শেখ হাসিনার ‘গ্যাং অব ফোরে’ ছিলেন যারা
শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫



শেখ হাসিনার ‘গ্যাং অব ফোরে’ ছিলেন যারা

গুলি চালিয়ে কিছু লোক মেরে ফেললে বিক্ষোভ এমনিতেই দমন হয়ে যাবে। জুলাই আন্দোলনে গত বছরের ৪ আগস্ট রাতে শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে এমন পরামর্শ দেন তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দিকী। তিনি সেনাবাহিনী দিয়ে আন্দোলনকারীদের দমনের জন্যও বলেন হাসিনাকে।

ওই রাতে ‘গ্যাং অব ফোর’ নামে পরিচিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শেখ হাসিনাকে কঠোর অবস্থানে যেতে বলেছিলেন। এর ফলে শেখ হাসিনার নির্দেশে পরদিন ৫ আগস্ট ঢাকাসহ সারা দেশে শত শত আন্দোলনকারীকে গুলি করে গণহত্যা চালানো হয়।

শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর আগমুহূর্ত পর্যন্ত হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ক্ষমতায় থাকার সব ধরনের অপচেষ্টা করেন। ৪ আগস্ট রাতের বৈঠকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়টি সামনে এলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলতে থাকেন, যা হওয়ার হবে। তিনি ক্ষমতা ছাড়বেন না। শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে শক্ত হয়ে, মেরুদণ্ড শক্ত করে কঠোর হয়ে বিক্ষোভ দমনের নির্দেশ দেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে (ফরমাল চার্জ) এমন তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

এ মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনু। তার বিরুদ্ধে ৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ৩৯ পৃষ্ঠার। এতে ২০ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর এ মামলায় ইনুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন।

জুলাই আন্দোলন দমনে হত্যাযজ্ঞ ছাড়াও পিলখানা হত্যাকাণ্ড, বিরোধীদের দমনে বিচারপতিদের পুরস্কার প্রদান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসনকে সাজা দিয়ে দুই বিচারপতির উপঢৌকন গ্রহণ, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা, বিচারপতি খায়রুল হকের প্রতারণাসহ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের নানা অপকর্ম উঠে আসে ফরমাল চার্জে।

এতে বলা হয়, আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও ১৪ দলীয় জোটের নেতারা দলগতভাবে সিদ্ধান্ত নেন দেশব্যাপী মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করার। ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ছিল হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদও আন্দোলন দমনে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫৪:৪৪   ১৪০ বার পঠিত  




জাতীয়’র আরও খবর


ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচারিক সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ: আইনমন্ত্রী
সংসদের কেনাকাটায় অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি, জানাল তদন্ত কমিটি
সংসদে আইনমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা, গুমসহ ১ হাজার ৮৫৫ মামলা
দাম বাড়লো সয়াবিন তেলের
২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৭২ ডেথ রেফারেন্স বিচার নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ফাঁসির আসামিরা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু
ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প চালু, বিনামূল্যে আইনজীবী সেবা পাবে সাধারণ মানুষ
দুই সচিবকে বদলি, একজনের পদোন্নতি
‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার
বিচার বিভাগে ডিজিটাল অগ্রযাত্রা, জনভোগান্তি কমাতে সংস্কারে গতি আনছে সরকার

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ