
পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারতের ধ্বংসাত্মক হামলার তিন মাস পর ভারতীয় বিমানবাহিনীর সহকারী প্রধান অপারেশন সিঁদুরের নতুন ভিজ্যুয়াল ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন। এই অভিযান ছিল জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার পর ভারতের পাল্টা ব্যবস্থা। এনডিটিভি ডিফেন্স সামিটে এয়ার মার্শাল নর্মদেশ্বর তিওয়ারি জানান, পাকিস্তানকে যুদ্ধবিরতির টেবিলে আনতে ভারতীয় বিমানবাহিনী ৫০টিরও কম অস্ত্র ব্যবহার করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে প্রচুর লক্ষ্যবস্তুর বিকল্প ছিল। শেষমেশ আমরা নয়টি লক্ষ্যবস্তু বেছে নিই। মূল শিক্ষা হলো- ৫০টিরও কম অস্ত্র ব্যবহার করে আমরা সংঘাতের অবসান ঘটাতে পেরেছি। এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা আমি আপনাদের মনে রাখতে বলব। এয়ার মার্শাল তিওয়ারি আরও বলেন, যুদ্ধ শুরু করা সহজ। কিন্তু শেষ করা সহজ নয়। তাই আমাদের বাহিনী সম্পূর্ণ সতর্ক, মোতায়েন ও যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল। তিনি সাফল্যের কৃতিত্ব দেন ভারতের ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমকে (আইএসিসিএস)। যা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক উভয় অভিযানের মূলভিত্তি। এই সিস্টেম ভারতের পক্ষে প্রথম আঘাত সামলে নিয়ে শক্তিশালী পাল্টা জবাব দিতে সক্ষম করে, যা পাকিস্তানকে উত্তেজনা প্রশমন করতে বাধ্য করে।
তিওয়ারির মতে, নয়াদিল্লির উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ছিল তিনটি। প্রথমত, শাস্তিমূলক পদক্ষেপকে চোখে দেখা ও দৃশ্যমান করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বার্তাটি ভবিষ্যতের হামলা ঠেকানোর মতো শক্তিশালী হতে হবে এবং তৃতীয়ত, সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে এবং সম্ভাব্য প্রচলিত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় দিক ছিল- আমাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছিল প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনায়। এতে আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় কমে যায়। বাস্তবে যা ঘটেছিল, তার সাথে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাল মিলিয়ে চলতে পেরেছিলাম। চার দিন ধরে সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন অনুপ্রবেশ এবং নিয়ন্ত্রণ রেখাজুড়ে আর্টিলারি যুদ্ধের পর ১০ই মে সন্ধ্যা থেকে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে ভারত ও পাকিস্তান রাজি হয়। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জম্মু-কাশ্মীর (শ্রীনগরসহ) এবং গুজরাটের বিভিন্ন জায়গায় পাকিস্তানি ড্রোন দেখা যায় ও আটকানো হয়। ভারত অভিযোগ করে, পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি সাংবাদিক বৈঠকে জোর দিয়ে বলেন, আমরা এই লঙ্ঘনগুলোকে অত্যন্ত গুরুতরভাবে গ্রহণ করছি। ১০ই মে ভোরে ভারতীয় বিমানবাহিনী ব্রহ্মস-এ (বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিগুলিতে। প্রথম আঘাত লাগে রাওয়ালপিন্ডির কাছে চকলালা ও পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধায়। দুটো ঘাঁটিরই পাকিস্তানি সেনার জন্য কৌশলগত বিমান ও লজিস্টিক গুরুত্ব ছিল। ১০ মে বিকেলে পাকিস্তানের একাধিক আক্রমণাত্মক কৌশল ব্যর্থ করার পর পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনসের মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লাহ সরাসরি ফোন করেন ভারতের ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘোষাল ঘাই’কে। ফোন কলটি হয়েছিল ভারতীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে, যা পরে সাংবাদিক বৈঠকে নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র সচিব মিশ্রি। ভারত নতুন করে এসব তথ্য দিলেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা যেসব বক্তব্য দিয়েছে তা ভারতের আগের দেয়া প্রতিক্রিয়ার জবাব।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:০৩:৪০ ১৭ বার পঠিত