ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। তিনি একজন কলেজ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন। কিন্তু তাদের কারো বক্তব্যই পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। এ নিয়ে উভয় দিক থেকেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এই ছাত্রী আর কেউ নন। তিনি আমেরিকান অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টস। এমনই এক পটভূমিতে তৈরি ‘আফটার দ্য হান্ট’ ছবি। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হয়েছে এই ছবি। এ সম্পর্কে আমেরিকান অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টস বলেছেন, মানবজাতির মধ্যে আমরা আলাপচারিতার শিল্প হারাচ্ছি। উৎসবে তিনি তার নতুন এ ছবির প্রিমিয়ারে এসব কথা বলেন। ছবিটি যৌন নির্যাতন নিয়ে তৈরি, যা দর্শকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে পারে।
জুলিয়া রবার্টস স্বীকার করেন, ছবিটি বিতর্ক উসকে দেবে। তিনি বলেন, আমরা মানুষকে আলাপচারিতায় চ্যালেঞ্জ করছি। কেউ তাতে আনন্দিত হবে। কেউ ক্ষুব্ধ হবে। সেটা প্রত্যেকের নিজের ব্যাপার। তিনি আরও যোগ করেন, এ ছবিতে অনেক পুরোনো বিতর্ক নতুনভাবে ফিরে এসেছে। আর সেখান থেকেই আলাপ শুরু হয়। ছবিতে রবার্টস অভিনয় করেছেন অধ্যাপিকা আলমা চরিত্রে। তিনি একদিকে তার মেধাবী ছাত্রী ম্যাগি (আয়ো এদেবিরি) আর অন্যদিকে সহকর্মী ও বন্ধু হ্যাঙ্কের (অ্যানড্রু গারফিল্ড) মধ্যে সম্পর্কে আটকে পড়েন। প্রেস প্রদর্শনী শেষে কয়েকজন নারী সাংবাদিক ছবির নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এ প্রসঙ্গে জুলিয়া রবার্টস বলেন, এমনটাই আমরা চেয়েছিলাম। সবাই ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি ও মতামত নিয়ে বের হবে। এতে মানুষ বুঝতে পারবে তারা আসলে কী বিশ্বাস করে, তাদের দৃঢ় অবস্থান কী। আমরা সেসব নাড়িয়ে দিতে চাই। এ বছর পরের দিকে অনলাইন অ্যামাজন ছবিটি মুক্তি দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীর সাক্ষ্যের অস্পষ্টতা নিয়ে তৈরি দ্ব্যর্থতার কারণে ছবিটি বিতর্কিত হতে পারে। রবার্টস বলেন, ছবিটি কোনো পক্ষ নেয়নি। তার ভাষায়, আমরা কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দিচ্ছি না। কেবল জীবনের কিছু মুহূর্ত ভাগ করে নিচ্ছি। তারপর চাইছি সবাই একে অপরের সাথে কথা বলুক।
তিনি বলেন, এটাই আমার কাছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অংশ। কারণ আমরা এখন মানবজাতি হিসেবে আলাপচারিতার শিল্পটাই হারাতে বসেছি। যদি এই সিনেমা মানুষকে একে অপরের সাথে কথা বলতে বাধ্য করে। তবে সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ইতালির পরিচালক লুকা গুয়াডাগ্নিনো। চিত্রনাট্য লিখেছেন অভিনেত্রী নোরা গ্যারেট। এটাই তার প্রথম স্ক্রিপ্ট।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:০৩:০৫ ১৭ বার পঠিত