অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তামীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল » অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তামীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তামীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দলের সদস্য গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রসিকিউশন দলেরই আরেক সদস্য বি এম সুলতান মাহমুদ এই অভিযোগ করে সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন।

সদ্য সাবেক প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিদায়ের দিন সোমবার তা প্রকাশ্যে আসে।

কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ নামের এক ব্যক্তি সোমবার সকালে ‘ট্রাইব্যুনালে সেটলিং বাণিজ্য ও রাজসাক্ষী নাটক : কেন সরতে হচ্ছে তাজুল ইসলামকে?’ শিরোনামে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।

সেই পোস্টের কমেন্টে কৌঁসুলি সুলতান মাহমুদ অভিযোগের বিষয়গুলো সামনে আনেন।

সুলতান মাহমুদ তার কমেন্টে লেখেন, ‘গত বছর নভেম্বরের শেষ দিকে আশুলিয়ার লাশ পোড়ানো মামলার আসামি আফজালের বউ সন্ধ্যার দিকে ভারী ব্যাগ নিয়ে তামিমের (গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম) রুমে প্রবেশ করে। বিষয়টি আমরা দেখার পরে সঙ্গে সঙ্গে তাজুল ইসলামের (সাবেক প্রধান কৌঁসুলি) রুমে গিয়ে তাকে জানাই।

এই ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং উল্টো আমাদের বকাঝকা করে।

তামিম তখন সবার সামনে স্বীকার গিয়েছিল, হ্যাঁ আফজালের বউ তার রুমে এসেছিল। চিফ প্রসিকিউটর শুধু জিজ্ঞেস করেছিলেন আসামির বউ কেন তার রুমে গিয়েছিল। শুধু এই জিজ্ঞাসা করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তী সময় সেই আফজালকে রাজসাক্ষী করা হলো।

চূড়ান্ত বিচারে তাকে খালাস দেওয়া হলো।’

আরো কয়েকটি মামলার সাক্ষীর বিষয়েও অভিযোগ তোলেন বি এম সুলতান মাহমুদ।

তিনি লিখেন, ‘চানখারপুলের মামলায় এসআই আশরাফুল গুলি করার নির্দেশনা দিচ্ছে–এরকম ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পরেও তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে। সেই ভিডিও আমার কাছে আছে। কারো লাগলে দেখতে পারবেন আমার কাছ থেকে নিয়ে।

‘রংপুরের আবু সাঈদের মামলায় এসি ইমরানকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো? এই ইমরানের নাম কয়েকজন সাক্ষীরা আদালতে এসে বলেছে।’

‘সাবেক আইজি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কী কারণে রাজসাক্ষী করা হলো? এই আইজি মামুনের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় শতশত মায়ের বুক খালি করেছে তার পোষ্য বাহিনী। আওয়ামী লীগের নেতাদের হাসিনার মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা যেত, কিন্তু সেটা না করে ২/৪ জন করে করে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। যারা এই তাজুল সিন্ডিকেটের পক্ষে সাফাই গাইছেন, তাদের বলব, এগুলো কি দুর্নীতি নয়? এগুলো কি শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি নয়?’

প্রধান কৌঁসুলি তাজুলের বিদায়ের দিন সাংবাদিকরা তামীমের নাম উল্লেখ করে দুর্নীতিতে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চান। এদিন তাকে প্রশ্ন করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনাদের একজন প্রসিকিউটর নানা রকম তোপ দাগছেন, আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছেন। যেগুলো উনি আগে কখনো করেননি। শেষ মুহূর্তে শেষ দিন বেলায় তিনি অভিযোগ আনছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এগুলোকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে হচ্ছে, কে কী অভিযোগ করছে—এগুলো আমরা আমলে নিচ্ছি না। ব্যক্তিগতভাবে ক্ষোভ থেকে কে কী বলছে, সে ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’

এরপর প্রশ্ন করা হয়, কৌঁসুলি সুলতান মাহমুদ স্পষ্টভাবে একটি অভিযোগ এনেছেন এই তামীম সাহেবকে উদ্ধৃত করে যে, উনার রুমে এসআই আফজালুলের ওয়াইফ ভারী একটা ব্যাগ নিয়ে এসেছে।

তখন তাজুল ইসলাম বলেন, ‘শোনেন, এই ধরনের ব্যক্তিগত অভিযোগ…এই জাতীয় অভিযোগ আমরা তদন্ত করে দেখেছি, এগুলো সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা। ব্যক্তিগত হিংসা চরিতার্থ করার জন্য যদি কেউ এই ধরনের কথা বলে, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। কারণ এখানে ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়াতে যা কিছু হয়েছে, ট্রান্সপারেন্ট এবং সেটা আদালতের মাধ্যমে কিন্তু প্রমাণিত হয়েছে।’

‘সুতরাং আজকে এই মুহূর্তে যদি কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো মিথ্যা অভিযোগ করে—বাংলাদেশের গোটা জনগণ সাক্ষী, মিডিয়া সাক্ষী, আপনারা জানেন যে কী ধরনের ট্রান্সপারেন্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া অগ্রসর হয়েছে। কারণ দুই-একজনের ব্যক্তিগত ক্ষোভের থেকে সে বুঝে হোক, না বুঝে হোক যদি বলে—সেগুলোকে আমরা ধর্তব্যের মধ্যে মনে করি না।’

তাজুল ইসলামের কথা বলার সময় পাশেই ছিলেন কৌঁসুলি গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম, তবে তিনি কোনো কথা বলেননি।

গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগটি ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

‘জুডিসিয়াল প্রসিডিউরে চলে যাওয়ার পরে এ ধরনের অভিযোগ অপ্রত্যাশিত। আমরা স্ট্রংলি বলছি যে, আমরা এ ধরনের সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্ত। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।’

তিনি বলেন, “অ্যাপ্রুভার করার ক্ষেত্রে সারা দুনিয়ার ক্রিমিনাল জুরিসপ্রুডেন্সে অ্যাপ্রুভারকে বরং আরো প্রসিকিউশন বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয় যে, ‘আপনি স্বীকার করেন আপনাকে এই সুবিধা দেওয়া হবে’। এখানে উল্টো অভিযোগ করতেছে।”

‘ডেভিড বার্গম্যান ওটাই লিখেছে যে ক্রিমিনাল সিস্টেমে কাউকে অ্যাপ্রুভার করতে পারা এটা প্রসিকিউশনের ক্রেডিট যে, তারা একজন আসামিকে, ইনসাইডারকে সাক্ষী বানাতে দোষ স্বীকার করাতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য প্রসিকিউশন বরং অফার করে। আর এখানে উল্টো অফার করার কথা বলা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৩:৩৮   ১৪ বার পঠিত  




আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’র আরও খবর


প্রসিকিউশন টিমের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করা হবে : চিফ প্রসিকিউটর
অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তামীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
কোনো অভিযোগের সপক্ষে সামান্য তথ্য-প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না: তাজুল ইসলাম
রাজসাক্ষী করতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে: চিফ প্রসিকিউটর
নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হবে না: সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর
নতুন সরকার পছন্দের লোককে বসাবে, এটাই স্বাভাবিক : তাজুল ইসলাম
শেখ হাসিনা-কামালের সাজা বৃদ্ধি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানি আজ
মানবতাবিরোধী অপরাধ জয়-পলকের বিচার শুরু, ২৫ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার চলমান থাকবে: চিফ প্রসিকিউটর
জুলাই গণহত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড জয়-পলক: চিফ প্রসিকিউটর

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ