
পাকিস্তানের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিযোগিতা নামমাত্র। ভারতের মূল টার্গেট হলো চীনকে এই প্রতিযোগিতায় ছাড়িয়ে যাওয়া। ইতিমধ্যেই এ লক্ষ্যে নিজেদের সক্ষমতা প্রমান করতে শুরু করেছে ভারত। দেশটি ২০ আগস্ট মধ্যমপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-ভি’র সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। ১৭ দশমিক ৫ মিটার লম্বা এই ক্ষেপণাস্ত্রটির ওজন প্রায় ৫০ হাজার কেজি। এটি এক হাজার কেজির পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। ঘণ্টায় অতিক্রম করে প্রায় ৩০ হাজার কিলোমিটার পথ। এটি বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
এদিকে এর এক সপ্তাহ আগে আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড (এআরএফসি) গঠনের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। বিশেষজ্ঞারা বলছেন, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে পাকিস্তানের চেয়ে অন্য প্রতিবেশীদের কাছে বার্তা দিচ্ছে ভারত। বলা হচ্ছে, চীনকে টার্গেট করেই এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে নয়াদিল্লি। ২০১২ থেকে এ নিয়ে দশ বারের মতো অগ্নি-ভি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো দেশটি। চলতি বছরের মার্চের পর আবারও এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। কয়েক বছর ধরে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনার পর অবশেষে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনে যোগ দিতে চীনে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর ঠিক আগে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অন্যরকম গুরুত্ববহন করে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা। কেননা ভারতের জন্য আঞ্চলিকভাবে চীনই তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত মূলত চীনকে সতর্ক করতেই মধ্যম ও দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় নিজেদের বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের বিষয়টি স্বীকার করেছে নয়াদিল্লি। তারা অবশ্য ব্রাহামোস ক্রুজ মিসাইল দিয়ে পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের দাবিও করেছে।
উল্লেখ্য, ব্রাহমোস ৩০০ কেজি ওজনের পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। অতি উচ্চগতির ফলে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় অপ্রতিরোধ্য। ফলে সহজেই এটি শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে, অগ্নি-ভি’র পরীক্ষা মূলত পাকিস্তানের এআরএফসি গঠনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে করা হয়নি। এটি চীনকে ইঙ্গিত দেয়ার জন্য করা হয়েছে। ২০২০ সালের সংঘাতের পর ভারত ও চীনের সেনারা বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে চার বছর ধরে মুখোমুখি অবস্থানে ছিলো। ২০২৪ সালে রাশিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মোদির সাক্ষাৎ হয়। এরপরই মূলত শান্তি প্রক্রিয়ায় শুরু করে দুই দেশ। আগামী রোববার এসসিও সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো চীনে যাবেন নরেন্দ্র মোদি। ভারতের দাবি, চীনের সঙ্গে চুক্তি করে তারা প্রায়ই বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছে। চীনের বিরুদ্ধে তারা সীমান্তে আগ্রাসনের অভিযোগ এনেছে। নয়া দিল্লি ভিত্তিক সেন্টার ফর এয়ার পাওয়ার স্টাডিসের এক ফেলো মানপ্রীত সেঠি বলেন, অগ্নি-ভি হলো পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। চীনের বিরুদ্ধে নিজেদের সক্ষমতা জোরদারে ভারত এটি তৈরি করেছে। এর সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।সূত্র: আল জাজিরা
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪২:৪৪ ২৯ বার পঠিত