আদানি বিদ্যুৎ চুক্তি ভারতীয় কর্পোরেট করের বোঝা বাংলাদেশের ওপর

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » আদানি বিদ্যুৎ চুক্তি ভারতীয় কর্পোরেট করের বোঝা বাংলাদেশের ওপর
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬



ভারতীয় কর্পোরেট করের বোঝা বাংলাদেশের ওপর

আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি বাজারদরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে নির্ধারিত হয়েছে এবং চুক্তি প্রদানের প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের নিযুক্ত ন্যাশনাল রিভিউ কমিটির (এনআরসি) পর্যালোচনা প্রতিবেদনের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক নিয়মের ব্যাত্যয় ঘটিয়ে বাংলাদেশের ওপর ভারতীয় করপোরেট করের দায়ও চাপানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গড্ডা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা বিদ্যুতের দাম নিকটতম বেসরকারি প্রতিযোগীর তুলনায় ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এছাড়া ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির অন্যান্য চুক্তির তুলনায় এই প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির হারও সবচেয়ে বেশি।

এনআরসি জানিয়েছে, এই মূল্য ব্যবধান নির্দিষ্ট চুক্তিগত সিদ্ধান্তের ফল এবং চুক্তি প্রদানের পুরো প্রক্রিয়ায় গুরুতর অসঙ্গতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশে ব্যবহৃত মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশের বেশি সরবরাহ করলেও, সেখানে অতিরিক্ত উচ্চমূল্যের কয়লা ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতীয় কর্পোরেট করের বোঝাও বিদ্যুতের দামের সঙ্গে যুক্ত করে বাংলাদেশের ওপর চাপানো হয়েছে।

এনআরসি উল্লেখ করেছে, আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত নিজ নিজ দেশের কর নিজেরাই বহন করে। কিন্তু আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে ভারতীয় কর্পোরেট করকে ট্যারিফের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে ব্যতিক্রম।

কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ যে মূল্য পরিশোধ করছে তা ন্যায্যতার তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একে দেশের সীমান্তপারের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিসংখ্যানগত ব্যতিক্রম হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করে আর্থিকভাবে সবচেয়ে ক্ষতিকর ধারাগুলো পুনরায় আলোচনার (রিনেগোশিয়েশন) সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে, আদানি পাওয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই পর্যালোচনা নিয়ে মন্তব্য করতে পারছে না, কারণ কমিটি তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি এবং প্রতিবেদনটির কপি কোম্পানিকে দেয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, বিপুল বকেয়া থাকা সত্ত্বেও তারা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে, যেখানে অন্য অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সরবরাহ কমিয়েছে বা বন্ধ করেছে।

বিবৃতিতে আদানি পাওয়ার বাংলাদেশের সরকারের কাছে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বিল পরিশোধে বিলম্ব তাদের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে।

বাংলাদেশ সময়: ৩:১৯:২৮   ৮১ বার পঠিত  




আন্তর্জাতিক’র আরও খবর


সিএনবিসি নিউজ ‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ছে না’
এফবিআই পরিচালককে নিয়ে বিস্ফোরক রিপোর্ট ‘যেকোনো সময় বরখাস্ত’
পাকিস্তানের পথে জেডি ভ্যান্স
সিএনএনের বিশ্লেষণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে ২৪ ঘণ্টার নাটকীয় পালাবদল
ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের
গাজা যুদ্ধবিরতি অচলাবস্থায়, প্রথমবার সরাসরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস
আল-কায়েদা ও আইএসকে অর্থায়নের দায়ে ফরাসি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ সমর্থন করে না যুক্তরাজ্য: স্টারমার
ইরানকে টোল দেওয়া জাহাজ আটকের নির্দেশ ট্রাম্পের
শেখ হাসিনা শরণার্থী নাকি অনুপ্রবেশকারী, অমিত শাহর উদ্দেশে অভিষেক

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ