
ওমান সাগরে নিজেদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইরান। এর জবাবে মার্কিন-ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ‘এমএসসি সারিস্কা’ নামের একটি কার্গো জাহাজে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।
আইআরজিসি নৌবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি মালবাহী জাহাজ ‘লিয়ান স্টার’-এর ওপর মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসী ও উসকানিমূলক হামলার জবাব দিতেই এই পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, পানামার পতাকাবাহী ‘এমএসসি সারিস্কা’ জাহাজটি ইরাকের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছালে সেটিকে লক্ষ্য করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি নিখুঁতভাবে আঘাত হানার পর জাহাজটিতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং এটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে জানিয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন বা বিদেশি বাহিনীর যেকোনো ধরনের নতুন আগ্রাসনের জবাব অত্যন্ত কঠোর ও নির্ণায়কভাবে দেওয়া হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানকালে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘লিয়ান স্টার’-কে লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন একটি যুদ্ধবিমান। বিমানটি থেকে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ লক্ষ্য করে ‘এজিএম-১১৪ হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে জাহাজটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। তেহরান এই ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ‘সামুদ্রিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগর অঞ্চলে চলমান সামরিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিসহ আশপাশের সমুদ্রসীমার ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং এই রুটে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের জবাব তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ৪:১৩:৫১ ১৬ বার পঠিত