
গোপালগঞ্জে আদালত চলাকালে বিচারকের ছোড়া পেপারওয়েটের আঘাতে এক শিক্ষানবিশ আইনজীবী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২-এ এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুনানি চলাকালে বিচারক মো. সুজন মিয়া বারবার সতর্ক করার পরও আদালতের পেছনের দিকে কয়েকজন উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন। এতে বিরক্ত হয়ে তিনি তার টেবিল থেকে একটি পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন। সেটি গিয়ে শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় আঘাত করে। পরে সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
গণমাধ্যমকে সাবিহা সুলতানা বলেন, ‘আমি আদালতকক্ষে বসে নথিপত্র দেখছিলাম। হঠাৎ একটি পেপারওয়েট এসে আমার মাথায় লাগে। পরে জানতে পারি, পেছনে কথা বলছিলেন এমন কয়েকজনের দিকে বিচারক এটি ছুড়ে মেরেছিলেন। কিন্তু সেটি এসে আমার গায়ে লাগে।’
গোপালগঞ্জ জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ আলম সেলিম বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি, বিচারক ইচ্ছাকৃতভাবে তার দিকে পেপারওয়েট ছুড়ে মারেননি। তারপরও এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি এবং সংশ্লিষ্ট বিচারককে আপাতত ওই আদালতে বিচারকার্য পরিচালনা থেকে বিরত রাখার অনুরোধ জানিয়েছি। …তবে কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বা তাকে কোনো আদালত থেকে প্রত্যাহারের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উচ্চ আদালতের। তবে তিনি যে আদালতে বিচারকার্য পরিচালনা করছিলেন, সেটি এখন অন্য একজন বিচারক পরিচালনা করবেন। বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।’
এ বিষয়ে বিচারক মো. সুজন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ সময়: ৪:১৯:৫৮ ৪ বার পঠিত