রয়টার্স এক্সক্লুসিভ হরমুজ ঘিরে হামলার আড়ালে ইরানে ‘বড় ছক’ যুক্তরাষ্ট্রের

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » রয়টার্স এক্সক্লুসিভ হরমুজ ঘিরে হামলার আড়ালে ইরানে ‘বড় ছক’ যুক্তরাষ্ট্রের
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬



রয়টার্স এক্সক্লুসিভ হরমুজ ঘিরে হামলার আড়ালে ইরানে ‘বড় ছক’ যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানে ওপর সাম্প্রতিক হামলার উদ্দেশ্য ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তিনজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শুধু হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলা চালাচ্ছে না। এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর লক্ষ্য।

মার্কিন ওই তিন কর্মকর্তা বলেন, ভবিষ্যতে আরও ‘বড় সামরিক অভিযান’ চালানোর আগে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাও এসব হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য।
সামরিক বিষয়ে কথা বলার অনুমতি থাকলেও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা বলেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হাতে আরও কার্যকর সামরিক বিকল্প তুলে দিচ্ছে।
গত সপ্তাহে কংগ্রেসকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় শুরুর বিষয়ে অবহিত করার পর থেকে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এখন পঞ্চম মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্যে দেশ দুইটির মধ্যে গত ১৭ জুন করা সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) ভেঙে পড়ার পর সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযানে ইরানের সামরিক বাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও, দেশটি এখনো উল্লেখযোগ্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজ এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের ওপরও হামলা চালিয়েছে তেহরান।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, ছোট নৌযান এবং অন্যান্য সামুদ্রিক সামরিক সম্পদ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন বলেন, এই হামলাগুলোকে “শেপিং অপারেশন” বা প্রস্তুতিমূলক সামরিক অভিযান হিসেবে দেখা যেতে পারে। এর মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আরও ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারে।
তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে পরবর্তী ধাপের অভিযান চালানোর জন্য এটি মঞ্চ প্রস্তুত করছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)।

সামরিক বিকল্প

তখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের খার্গ দ্বীপে স্থল অভিযান চালানোর বিষয়েও আলোচনা করেছিল। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়।
তবে এমন অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা, কারণ, মূল ভূখণ্ড থেকে ইরান সহজেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে দ্বীপটিতে পাল্টা হামলা চালাতে পারে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খার্গ দ্বীপে আগের হামলাগুলোর সময় তিনি তার সামরিক বাহিনীকে ইরানের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা এড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তিনি দ্বীপটি দখলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যদি আমরা তাদের সক্ষমতা যথেষ্ট পরিমাণে ধ্বংস করতে পারি, তাহলে আমি সেটি (দখল) করব।
এ ছাড়া ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত একটি স্থাপনাতেও হামলার হুমকি দিয়েছেন।

তেহরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর একটির কাছে গভীর ভূগর্ভে নির্মিত এই সুরক্ষিত স্থাপনাটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) সামরিক বিশ্লেষক এবং সাবেক মার্কিন মেরিন কর্মকর্তা মার্ক ক্যানসিয়ান বলেন, খার্গ দ্বীপ দখলের মতো সামরিক বিকল্প প্রকাশ্যে আলোচনা করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অবস্থান একদিকে যেমন কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে, অন্যদিকে এর নেতিবাচক দিকও রয়েছে।

তার ভাষায়, এ ধরনের বক্তব্য ইরানকে মানসিক চাপে ফেলতে পারে এবং আলোচনায় প্রভাব ফেলতে সহায়ক হতে পারে। তবে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ভালো নয়, কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ও দিক সম্পর্কে আগাম ইঙ্গিত দিয়ে ফেলছে।

কৌশলগত অচলাবস্থার আশঙ্কা

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিস্থিতিকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনা ও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অন্যদিকে, পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষক ইমরান বায়ুমি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্যগুলো মূলত তেহরানের ওপর আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে ইরানকে অনিশ্চয়তায় রাখার কৌশল বলে মনে হচ্ছে।
বায়ুমি বলেন, আমি কথাবার্তা আর বাস্তব পদক্ষেপকে আলাদা করে দেখি। আমার ধারণা, ট্রাম্প ও তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের মধ্যে যে আলোচনা হচ্ছে, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি যা পোস্ট করছেন, তার তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন।

বাংলাদেশ সময়: ০:৪৩:৩৯   ৮ বার পঠিত  




আন্তর্জাতিক’র আরও খবর


রয়টার্স এক্সক্লুসিভ হরমুজ ঘিরে হামলার আড়ালে ইরানে ‘বড় ছক’ যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানে ক্যানসার হাসপাতালে ‘বর্বরোচিত’ হামলা, সরানো হলো ২১১ রোগী
উত্তাল বেলুচিস্তান, পাকিস্তান কী ভেঙে যাচ্ছে?
চার সাংবাদিকের মুক্তির আহ্বান ৫ আন্তর্জাতিক সংস্থার
ব্রিফিংয়ে জয়সওয়াল শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয়
সিএনএনের বিশ্লেষণ ট্রাম্পের কৌশলেই খেলছে ইরান
ইরানে ফের মার্কিন নৌ অবরোধ, জাহাজ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা ট্রাম্পের
একাধিক বিস্ফোরণে আবারো কাঁপল ইরান
মজার বাজি ইংল্যান্ডের জয়ে ২৪ ঘণ্টার জন্য লোগো বদলালো নরওয়েজিয়ান এয়ার
ব্যাংককের পানশালায় ভয়াবহ আগুন, অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ