যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতীতে আলোচনায় বসার পর নিষেধাজ্ঞা ও হামলার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে ওয়াশিংটনের ওপর আর আস্থা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। তবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ সাত দিনের রোডম্যাপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের বার্তা ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। প্রস্তাবিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান। এর বিনিময়ে ইরান বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আটকে থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে লেবানন ও ইয়েমেনসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পেজেশকিয়ান হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার জন্য ইরানকে দায়ী করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান সম্ভব। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আঞ্চলিক দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধে নেমেছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণ মোকাবিলা করেছি এবং আমরা দৃঢ়ভাবে টিকে থাকব।”
আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতার পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের কোনো আঞ্চলিক পুলিশম্যানের প্রয়োজন নেই।” ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:০৯:১৭ ৮ বার পঠিত #আল-জাজিরা #ইরান #নিষেধাজ্ঞা #মধ্যপ্রাচ্য #মাসুদ পেজেশকিয়ান #যুক্তরাষ্ট্র #যুদ্ধবিরতি #হরমুজ প্রণালি