![]()
ইসলামী বইমেলা-২০২৬-এ ‘বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার’-এর প্রকাশনায় জবি শিক্ষক ড. মুহাম্মদ খাইরুল ইসলাম রচিত ‘ইসলামী ব্যাংকিং’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের পূর্ব গেটে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জবি শিক্ষক রচিত ‘ইসলামী ব্যাংকিং’-এর লেখক ড. মুহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে ১৯৮৩ সালে। বর্তমানে দেশের মোট ব্যাংকিং শিল্পের প্রায় ২৫ শতাংশ ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের আওতাভুক্ত। তবে ৯০ শতাংশ মুসলিমের দেশে এখনো প্রায় ৭৫ শতাংশ ব্যাংকিং লেনদেন প্রচলিত বা সুদভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইসলামের আদর্শের প্রতিফলন কতটা জরুরি, তা কোরআন-সুন্নাহর আলোকে আমাদের অনুধাবন করতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামিক ব্যাংক একটি প্রতিষ্ঠান, আর ইসলামিক ব্যাংকিং হচ্ছে একটি সিস্টেম। মুদারাবা, মুশারাকা, বাইয়ে মুরাবাহা ও বাইয়ে মুয়াজ্জালের মতো পদ্ধতিগুলো নতুন কোনো বিষয় নয়; রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগেও এসব পদ্ধতির প্রচলন ছিল। ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের মূল বিষয় হলো কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও নিয়ম মেনে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা। এই বইয়ে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের উৎপত্তি, বিকাশ, বিনিয়োগ পদ্ধতি, শরিয়াহ পরিপালন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এর ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন করতে হলে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে প্রচলিত আইনের ইসলামিকরণ করতে হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে কিশোরও যদি সমঝদার হয় এবং সজ্ঞানে হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তাহলে তার অপরাধের বিচার হতে হবে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের অনেক ক্ষেত্রেই ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে। ‘প্রচলিত আইনের ইসলামিকরণ: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ বইটিতে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানবজীবনের অন্যতম অপরিহার্য অনুষঙ্গ অর্থ। সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা সমাজে সম্পদের সুষম আবর্তন বাধাগ্রস্ত করে এবং বঞ্চনা তৈরি করে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সুদভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বের হয়ে ইসলামী নীতি অনুসরণ করতে হবে। ‘ইসলামী ব্যাংকিং’ অর্থব্যবস্থার অন্যতম অংশ এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইসলামী নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন বলেন, ৯০ শতাংশ মুসলমানের বাংলাদেশে স্বাধীনতার এত বছর পরও ইসলামী ব্যাংকিং ও ইসলামী অনুশাসন নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে হচ্ছে এটি ভাবার বিষয়। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বিরোধিতা এবং ইসলাম নিয়ে বিতর্কের কারণ আমাদের খুঁজে দেখতে হবে। সাধারণ মানুষ যারা ইসলামী অনুশাসন পালন করতে চান, তাদের বিভ্রান্ত না করে ইসলামী জগতের পণ্ডিতদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মুসলমান হলে দল-মত নির্বিশেষে পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করব এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করব না। ইসলামের পক্ষের শক্তিগুলোকে দায়িত্বশীল ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সংখ্যায় কম হলেও সত্যিকারের ঈমান ও ইসলামের আদর্শ ধারণ করতে পারলে আল্লাহর ইচ্ছায় বিজয়ী হব।
অনুষ্ঠানে বিআইএলআরসি ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম খলিফার সভাপতিত্বে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইএলআরসির উপদেষ্টা মু. ফরীদ উদ্দীন আহমাদ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পর্যায়ের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ৮:২৪:১৮ ২৬ বার পঠিত
