
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোট চলছে টান টান উত্তেজনার মধ্যে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভোট শুরু হলেও রাজ্যের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে গোলমাল ও অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এদিন সকাল থেকেই তার ভবানীপুর কেন্দ্রের বুথে বুথে টহল দিচ্ছেন। ভবানীপুর কেন্দ্রে হাজির বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীও।
পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ শুরু হতেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে ‘রেকর্ড সংখ্যক ভোটদানের’ আবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সকলকে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি। রাজ্যের মহিলা এবং যুব সম্প্রদায়কে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য বিশেষ আবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও রেকর্ড হারে ভোটদানের আবেদন করেছেন। তিনি লেখেন, ‘আপনার একটি ভোট বাংলার গৌরবকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে মহিলাদের সুরক্ষাকে নিশ্চিত করবে।’
বুধবার দ্বিতীয় দফায় ভোট হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায়। এই ৭টি জেলার মধ্যে গত নির্বাচনে চারটিতেই বিজেপির আসন ছিল শূন্য। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটে সকলের নজর ভবানীপুরের দিকে। এবার এই কেন্দ্রে লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারীর।
এদিন সকাল থেকেই বৃষ্টি মাথায় করে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে লাইন দিয়ে ভোট দিচ্ছেন। সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। ভোটের হার সর্বোচ্চ গলসিতে, সেখানে ভোট পড়েছে ৪৭.৮৬ শতাংশ। তার পরেই রয়েছে মন্তেশ্বর। সেখানে ভোটের হার ৪৬.৮৩ শতাংশ। সকাল ১১টা পর্যন্ত সবচেয়ে কম ভোটের হার মহেশতলায় ৩৩.৫ শতাংশ। ভবানীপুরে সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটের হার ৩৭.২৭। ভাঙড়ে ভোট পড়েছে ৩৪.২৮ শতাংশ। তবে অনেক জায়গা থেকে ইভিএম বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যক্ষেকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, এরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের টার্গেট করে আক্রমণ চালাচ্ছে। তিনি জানান, সারারাত আমি জেগে থেকে সব খবর নিয়েছি। তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে বারবার অভিযোগ তোলেন। মনে করিয়ে দেন তার নিজের পদের কথা।
মমতার কথায়, ‘মনে রাখতে হবে, আমি কিন্তু এখনও চেয়ারে আছি।’ পুলিশ পর্যবেক্ষকদের নিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে এদের আনা হয়েছে। কোনও কাজ করছে না শুধুমাত্র ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে, সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। বিজেপির তালে নাচছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। তবে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এসব হতাশার বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচন কমিশন বাংলার ভোটের পরিবেশ বদলে দিয়েছে। সকাল থেকে একাধিক বুথে ঘুরলাম।ভোটারদের মধ্যে প্রচণ্ড উৎসাহ দেখছি। সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন।
শেষ দফার এই নির্বাচনে প্রথম একটি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। ইভিএমে বিজেপি প্রতীকের ওপর টেপ সাঁটিয়ে দেয়া হয়েছে বলে মারাত্মক অভিযোগ করেছেন ফলতা বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। যা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে অভিযোগ খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, চাওয়া হয়েছে বিস্তারিত রিপোর্টও।
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বের ভোটগ্রহণ চলাকালে বুধবার ভোরে চাপড়া, শান্তিপুর ও ভাঙ্গড়সহ একাধিক স্থানে সহিংসতা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এন্টালি আসনের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের প্রতিনিধিকে একটি ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার পর তিনি ভোটকর্মী ও নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসন্তীতে বিজেপির প্রার্থী বিকাশ সর্দার যখন বুথ পরিদর্শনে যান, তখন তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ভেঙে দেয়া হয় বিকাশের গাড়ি। তার নিরাপত্তারক্ষীর আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়।
নদিয়া জেলার চাপড়ায় একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত লোকজন আরেকজন বিজেপি এজেন্টকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওই এজেন্ট মোশারফ মীরকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মীর দাবি করেছেন, এক ডজনেরও বেশি তৃণমূল কর্মী বন্দুক ও রড দিয়ে তাকে আঘাত করে। বিজেপি প্রার্থী সৈকত সরকার জানিয়েছেন, একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তৃণমূল এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:০৮:২০ ৫ বার পঠিত