
পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসার যে নজির রয়েছে তা মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশন আগেভাগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভোটের পরে ৬০ দিন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সোমবার জানিয়েছেন, বিধানসভা নির্বাচনের পরে আরও ৬০ দিন পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। তিনি ভোটারদের নির্বাচনের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত দফায় ‘দিদির গুন্ডাদের’ ভয় ছাড়াই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রচারের শেষ লগ্নে কলকাতার বেহালায় একটি জনসভা থেকে তিনি বলেন, “ভাই ও বোনেরা, ২৯ তারিখে গিয়ে ভোট দিন, দিদির (মমতা ব্যানার্জীর) গুন্ডাদের নিয়ে চিন্তা করবেন না। নির্বাচন কমিশন প্রতিটি কোণায় কোণায় কেন্দ্রীয় সশস্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ )মোতায়েন করেছে এবং আমি আপনাদের বলছি যে, নির্বাচনের পর বিজেপি ক্ষমতায় এলেও, কেন্দ্রীয় বাহিনী আরও ৬০ দিন রাজ্যে থাকবে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের, ফলাফল ঘোষণার পরেও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ভোট-পরবর্তী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রায় ৫০০ কোম্পানি সিএপিএফ মোতায়েন থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকবে। প্রতি সিএপিএফ কোম্পানিতে প্রায় ১০০ জন জওয়ান থাকেন।
শাহ এবং নির্বাচন কমিশনের বিবৃতি থেকে স্পষ্ট যে, ২০২১ সালে সংগঠিত ভোট-পরবর্তী সহিংসতার পুনরাবৃত্তি এড়াকেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সে বছর ২ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর একাধিক জেলায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, হামলা, যৌন সহিংসতা এবং বিরোধী কর্মীদের জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বিতাড়নের অসংখ্য ঘটনা ঘটেছিল।
২৯শে এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে শেষ দফার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২৯৪ সদস্যের বিধানসভার জন্য ১৫২টি আসনে প্রথম পর্বের ভোটগ্রহণ ২৩শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গণনা হবে ৪ মে।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটে যোগি রাজ্যের এনকাউন্টার বিশেষজ্ঞকে নিয়োগ : উত্তর প্রদেশের যোগী সরকারের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার নিয়োগ পশ্চিমবঙ্গে একটি বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের মতে, ‘মুক্ত ও সুষ্ঠু ভোট’ নিশ্চিত করার জন্য শর্মাকে রাজ্যে একজন ‘পুলিশ পর্যবেক্ষক’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
তবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর জন্য এজেন্ট নিয়োগ করে’ তাদের পক্ষে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস ও অখিলেশ যাদব অভিযোগ করে বলেন, যোগী আদিত্যনাথের এনকাউন্টার বিশেষজ্ঞ অজয় পাল শর্মাকে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ঠিক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই সেই ব্যক্তি যার সম্মানের প্রতীক হলো ‘এনকাউন্টার’ থেকে পাওয়া লাশের সংখ্যা এবং যার আসল বিশেষত্ব হলো পুলিশের পোশাককে ব্যক্তিগত এটিএম এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার হাতিয়ারে পরিণত করা। তৃণমূল কংগ্রেসের এক বিবৃতিতে পালের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বিকৃত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪৩:০৫ ৫ বার পঠিত