‘হলুদ লাইন’ যেভাবে গাজার জনজীবনে চাপ বাড়াচ্ছে

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » ‘হলুদ লাইন’ যেভাবে গাজার জনজীবনে চাপ বাড়াচ্ছে
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬



‘হলুদ লাইন’ যেভাবে গাজার জনজীবনে চাপ বাড়াচ্ছে

গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি সেনাদের নতুন লাইন নির্দেশকারী হলুদ রঙের কংক্রিট ব্লকের কয়েক মিটার দূরে চার সন্তানের পিতা জায়েদ মোহাম্মদ তার পরিবারসহ ছোট একটি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। এই হলুদ লাইন হলো সেই সীমারেখা যেখানে ইসরাইলি সেনাদের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া গাজা শান্তি চুক্তির প্রথম ধাপে সরতে হয়েছিল। ইসরাইলি সামরিক মানচিত্র অনুযায়ী, লাইনটি গাজার পূর্বসীমা থেকে ১.৫ কিমি থেকে ৬.৫ কিমি  ভেতরে বিস্তৃত এবং আনুমানিক ৫৮ শতাংশ এলাকা জুড়ে। এই লাইন গাজাকে দুই অংশে ভাগ করেছে। পূর্বাঞ্চল- ইসরাইলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে এবং পশ্চিমাঞ্চল। সেখানে ফিলিস্তিনিরা তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে। তবে তারা ক্রমাগত বিমান হামলা ও জোরপূর্বক স্থানান্তরের হুমকির মুখোমুখি। এ খবর দিয়ে অনলাইন আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ লিখেছেন, জায়েদের ত্রাণ শিবির ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে মাটির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে আছে। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, গাজায় ৬ কোটি টনের বেশি ধ্বংসাবশেষ সরাতে সাত বছরেরও বেশি সময় লাগবে। ইসরাইলের দুই বছরেরও বেশি গণহত্যার যুদ্ধ গাজার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এখন বেশির ভাগ মানুষ তীব্র ঝড়, বিমান হামলা ও ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য।

জায়েদ আল-জাজিরাকে বলেন, শেলিং এবং গুলির আওয়াজ সারাক্ষণ শোনা যায়। তিনি পূর্ব দিগন্তের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এখান থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে ইসরাইলি সৈন্যরা অবস্থান করছে। মাঝে মাঝে আমরা দেখছি বুলডোজার বাড়ি ধ্বংস করছে বা ফসলের জমি সমতল করছে। এক দু’ধাপও এগোনো বিপজ্জনক।হলুদ লাইনের কাছে বসবাসকারীরা বলেন, তারা প্রায়ই গোলাগুলি বা ছোট বিস্ফোরণের শব্দে জাগেন। জায়েদ বলেন, রাতে পুরোপুরি অন্ধকারে থাকেন তারা। কারণ বিদ্যুৎ নেই। তবে সৈন্যরা ফ্লেয়ার ব্যবহার করে আকাশ কিছু সময়ের জন্য আলোকিত করে।

জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলি জানিয়েছে, এই শত্রু এলাকা যুদ্ধের সময় বারবার প্রসারিত, স্থানান্তরিত ও সংকুচিত হয়েছে। ফলে এটি কার্যত অভ্যন্তরীণ সীমারেখার মতো কাজ করছে। ডিসেম্বরে গাজার সফরে ইসরাইলি সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির স্পষ্টভাবে বলেছেন, হলুদ লাইন হলো একটি নতুন সীমারেখা। এই লাইন প্রায় ৬০ শতাংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যার মধ্যে দক্ষিণের রাফাহ এবং উত্তরের বেইত হানুন শহর অন্তর্ভুক্ত। যুদ্ধের সময় ইসরাইলি জোরপূর্বক স্থানান্তরের মাধ্যমে হলুদ লাইন তৈরি হয়েছে। অনেক সময় স্থানান্তরের নোটিশ দেয়া হতো পত্রিকা, ফোন মেসেজ বা অনলাইন মানচিত্রে, তখনই বোমা বিস্ফোরণ চলছিল। ফলে ফিলিস্তিনিদের নিরাপদে চলে যাওয়ার সময় খুব কম থাকতো।

জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধের বিভিন্ন সময়ে গাজার ৭০ শতাংশের বেশি এলাকা জোরপূর্বক ত্যাগ বা নিরাপদ নয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। হলুদ লাইন হল গাজার পরিবর্তনশীল সামরিক এলাকা। মানচিত্রে এগুলো স্থানান্তরিত, সম্প্রসারিত বা অদৃশ্য হলেও নাগরিকদের জন্য সব সময় উপস্থিত। এই লাইন নির্ধারণ করে- কোন রাস্তা নিরাপদ, কোন বাড়ি খালি, কখন পালাতে হবে। অনেক জায়গায় দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। ফিলিস্তিনিরা নির্ভর করে অনুভুতি, শব্দ ও স্মৃতির ওপর। একদিন নিরাপদ মনে হওয়া এলাকা পরের রাতেই বিপজ্জনক হয়ে যেতে পারে। পরিবার দ্রুতই প্যাক করে চলে যায়, অনেক সময় বাড়ি খালি থাকে, যদিও স্থাপনাটি এখনও আছে। অধিকাংশ মানুষ অন্তত একবার, অনেকে একাধিকবার স্থানান্তরিত হয়েছেন। এভাবে থাকা মানসিক চাপ বাড়ায়।

বাংলাদেশ সময়: ৩:২০:৩৭   ৮৮ বার পঠিত  




আন্তর্জাতিক’র আরও খবর


সিএনবিসি নিউজ ‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ছে না’
এফবিআই পরিচালককে নিয়ে বিস্ফোরক রিপোর্ট ‘যেকোনো সময় বরখাস্ত’
পাকিস্তানের পথে জেডি ভ্যান্স
সিএনএনের বিশ্লেষণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে ২৪ ঘণ্টার নাটকীয় পালাবদল
ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের
গাজা যুদ্ধবিরতি অচলাবস্থায়, প্রথমবার সরাসরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস
আল-কায়েদা ও আইএসকে অর্থায়নের দায়ে ফরাসি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ সমর্থন করে না যুক্তরাজ্য: স্টারমার
ইরানকে টোল দেওয়া জাহাজ আটকের নির্দেশ ট্রাম্পের
শেখ হাসিনা শরণার্থী নাকি অনুপ্রবেশকারী, অমিত শাহর উদ্দেশে অভিষেক

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ