![]()
জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলি চালানো ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে সীমান্ত পাড়ি দিতে সহায়তাকারী হিসাবে আলোচিত নাম ফিলিপ স্নাল। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের এই মানব পাচারকারীকে হন্যে হয়ে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই ফিলিপের সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবার ওসমান হাদি হত্যায় নাম উঠে এলো মিরপুরের আওয়ামী লীগ নেতা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পির।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাপ্পি ভারতে অবস্থান করে ১২ ডিসেম্বর বেলা ৩টার দিকে তার ভগিনীপতি আমিনুল ইসলামকে ফোন করেন। এ সময় তিনি আমিনুলকে বলেন, আমি ফিলিপকে পাচ্ছি না। দ্রুত তাকে আমার সঙ্গে কথা বলতে বলো। এর কিছুক্ষণ পর ফিলিপ বাপ্পিকে ফোন করে। তাদের মধ্যে অসংখ্যবার কথা হয়। সর্বশেষ রাত সাড়ে ৪টার দিকে ফিলিপ ফোন করে বাপ্পিকে বলে, ‘যে দুজনকে পার করেছি এরা ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় জড়িত। এখন বিজিবি আমাকে খুঁজতেছে।’ এরপরই ফিলিপ তার ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়। জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এই বাপ্পি। তিনি ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার রাজনীতি করতেন।
গোয়েন্দারা বলছেন, ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। এরপর ফিলিপের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেন বাপ্পি। যার তথ্যপ্রমাণ রয়েছে গোয়েন্দাদের হাতে। ঘটনার দিন ফিলিপ ও বাপ্পির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করিয়ে দেন বাপ্পির ভগিনীপতি আমিনুল ইসলাম। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বুধবার আমিনুলকে গ্রেফতার করেছে। তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালকে সীমান্তে আত্মগোপনে সহায়তাকারী হিসাবে আমিনুলকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়।
আমিনুল ইসলামের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার বাবার নাম মো. শামসুল হক। বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার জয়কৃষ্ণপুর। বর্তমানে থাকেন রাজধানীর পল্লবী থানার ১১ নম্বর সেকশনের ১ নম্বর রোডের একটি বাসায়। এক সময় একটি গার্মেন্টে চাকরি করতেন তিনি। পরে চাকরি ছেড়ে কাউন্সিলর বাপ্পির সঙ্গে চলাফেরা করতেন। বাপ্পির চাঁদাবাজির টাকা-পয়সার ম্যানেজমেন্টের মূল দায়িত্বে ছিলেন আমিনুল।
আমিনুলের রিমান্ড শুনানির আবেদনে বলা হয়েছে, ১২ ডিসেম্বর পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডের ডিআর টাওয়ারের সামনে ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আসামি মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) বেলা ৩টার দিকে তার এক নিকটাত্মীয়র মাধ্যমে ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি এজাহারনামীয় আসামি ফয়সালকে সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তা করেন। এছাড়াও তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামি এবং উক্ত আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারীদের অর্থ প্রদানে সরাসরি সংযুক্ত রয়েছেন মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি এবং সোর্সের তথ্য অনুযায়ী আসামিকে বুধবার মিরপুর-১১ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সুকৌশলে এড়িয়ে যান। পরে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত র ্যাব ও পুলিশ মিলে মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে।
ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবীর দায় স্বীকার করে জবানবন্দি : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় পল্টন থানার মামলায় গ্রেফতার ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবী আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু ও বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা। আসামিরা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তা রেকর্ড করেন।
বাংলাদেশ সময়: ০:৪৬:৪৫ ৭৯ বার পঠিত