গাজায় হামলা তীব্রতর আরব-মুসলিম নেতাদের সঙ্গে আজ বৈঠক ট্রাম্পের

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » গাজায় হামলা তীব্রতর আরব-মুসলিম নেতাদের সঙ্গে আজ বৈঠক ট্রাম্পের
মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫



আরব-মুসলিম নেতাদের সঙ্গে আজ বৈঠক ট্রাম্পের

গাজা যখন জ্বলছে, মানুষ বাঁচার শেষ আকুতি জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছে তখন সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিশর, জর্ডান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে একটি বহুপাক্ষিক বৈঠকে বসার কথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে এসব মুসলিম দেশের নেতাদের কি শান্তনার বাণী শোনান সেটা এখন দেখার বিষয়। ইতিমধ্যে গাজায় গণহত্যা, গণঅনাহার, নিষ্ঠুরতা দেখে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে ফ্রান্স, বৃটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া সহ প্রায় দেড় শত দেশ। তারপরও কিভাবে গাজায় ধ্বংসলীলায় মেতে উঠেছে ইসরাইল, বিশ্বের এসব নেতা কি ট্রাম্পের সামনে সে প্রশ্ন তুলবেন! নাকি নিজেদের গদি বাঁচানোর কূটনৈতিক খেলায় মত্ত থাকবেন! যে হামাস নিজেদের ভূখণ্ডের স্বাধীনতার দাবিতে যুগ যুগ ধরে লড়াই চালিয়ে আসছে তাদের নির্মূল করার নামে পুরো গাজাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে। সেখানে দণ্ডায়মান কোনো ভবন এখন নেই বললেই চলে। তারপরও গলা উঁচু করে কথা বলে যাচ্ছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

অনলাইন আল জাজিরা বলছে, গাজার তাল আল-হাওয়া পাড়া ও শাতি শরণার্থী শিবির থেকে আকাশচুম্বী ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে সেখানে কমপক্ষে ১৭ গাজাবাসীকে হত্যা করা হয়েছে। ইসরাইলের ভয়াবহ বিমান হামলা ও স্থল অভিযান তীব্রতর হওয়ায় বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে কেন্দ্রীয় গাজায় অবস্থানরত সাংবাদিকরা জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিও জানিয়েছে, মুসলিম নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প গাজায় শান্তি ও যুদ্ধপরবর্তী শাসনব্যবস্থার জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের প্রাক্কালে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে ফ্রান্সসহ ছয় দেশের নেতারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

অ্যাক্সিওজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শেষ করা ও জিম্মিদের মুক্তির পাশাপাশি ট্রাম্প ইসরাইলের সম্ভাব্য প্রত্যাহার এবং যুদ্ধপরবর্তী গাজা শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় বসবেন। ওয়াশিংটন চাইছে, আরব ও মুসলিম দেশগুলো গাজায় সামরিক বাহিনী পাঠাতে সম্মত হবে। এটা করা হলে ইসরাইল সেনা প্রত্যাহার করতে পারে। একইসঙ্গে গাজার পুনর্গঠন ও পরিবর্তন বিষয়ক তহবিলের অর্থায়নেও তারা অংশগ্রহণ করবেন। ওদিকে কয়েক ঘণ্টায় সামরিক অভিযান বিশেষভাবে গাজা সিটিতে তীব্র হয়েছে।

আল জাজিরার সাংবাদিকরা বলছেন, আমরা ভয়াবহ বিমান হামলার চিত্র নথিভুক্ত করছি। নুসেইরাত থেকে দেখা গেছে তাল আল-হাওয়া পাড়া ও শাতি শরণার্থী শিবিরে ধ্বংসস্তূপ থেকে আকাশছোঁয়া ধোঁয়া উঠছে। শাতি শিবিরে তিনটি বাড়ি ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হয়েছে। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছেন। কিন্তু সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা এখনো তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করতে পারেননি। সামরিক অভিযান দ্রুততর হচ্ছে। ইসরাইলি সেনারা ধীর, সতর্ক গতিতে এগোচ্ছে। কিন্তু তাদের অগ্রযাত্রার আড়ালে আছে স্থলবাহিনী, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও কোয়াডকপ্টারের ভারী গোলাগুলি। গাজা সিটিতে এখনো অনেক মানুষ আটকা আছেন। তাদের দক্ষিণে যাওয়ার মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য নেই, আবার কোথাও যাওয়ার জায়গাও নেই।

দুই ডজন দেশের যৌথ বিবৃতি:ওদিকে কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি এবং আরও কয়েকটি পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশ গাজার রোগীদের ইসরাইল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসক বা সরঞ্জাম সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, আমরা ইসরাইলের প্রতি জোরালোভাবে আহ্বান জানাই যেন তারা পশ্চিম তীরের দিকে চিকিৎসা করিডর পুনঃস্থাপন করে। এর মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমও অন্তর্ভুক্ত। এভাবে গাজা থেকে চিকিৎসা সরিয়ে নেয়া পুনরায় শুরু হতে পারে এবং রোগীরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেই জরুরি চিকিৎসা পেতে পারেন। অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং পোল্যান্ডসহ প্রায় দুই ডজন দেশ এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এতে স্বাক্ষরকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত নেই।

যুদ্ধ বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ইইউ:ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, ইইউয়ের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সবাই যদিও এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, তবুও সবাই দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং গাজায় যুদ্ধ বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘের অধিবেশনে নিউ ইয়র্কে আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কস্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্স, অ্যান্ডোরা, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা ও মোনাকোর পদক্ষেপের ফলে এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘বেশির ভাগ’ সদস্যই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি বলেন, কিছু দেশ মনে করে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার এখনো উপযুক্ত সময় আসেনি। তবে তারা সবাই এই প্রকল্প এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ধারণাকে সমর্থন করছে। কস্তার ভাষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রত্যেকে এই যুদ্ধ থামাতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এখনই এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করার সময়। ইসরাইলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এটা বোঝা যে তারা সারা বিশ্বে বন্ধু হারাচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:১২:১৬   ১৬১ বার পঠিত  




আন্তর্জাতিক’র আরও খবর


ইসরাইলি বাহিনীর অতর্কিত হামলায় দুই ইরানি সেনা নিহত
ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের
ফের যুদ্ধের শঙ্কা ইসরাইলে ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান
বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ককে চরিত্রের দোষ হিসেবে দেখা যাবে না: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
সাবেক এমপি আনার হত্যা মামলার আসামি শিমুল জামিন পেলেন হাইকোর্টে
ইসরাইলের কেন্দ্রে বন্দুকধারীর সিরিজ হামলা, বহু হতাহত
আল জাজিরার প্রতিবেদন অস্ত্র সমর্পণ করবে না হামাস
ইরানি জাহাজে হামলার জবাবে মার্কিন-ইসরায়েলি পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
বিল পুলটেকে ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে নিয়োগ ট্রাম্পের
রয়টার্স এক্সক্লুসিভ চীনের মরুভূমিতে ‘রহস্যময় সামরিক নগরী’, টার্গেট যুক্তরাষ্ট্র?

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ