
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এই খবরে ‘অবাক হননি’। গত সপ্তাহে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা সত্ত্বেও এই হামলা হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প এ ঘটনায় অখুশি হলেও অবাক হননি, কারণ দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ করছে। লিভিট আরও বলেন, সম্ভবত উভয় পক্ষই এই যুদ্ধ শেষ করতে অপ্রস্তুত। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান যুদ্ধ শেষ হোক, কিন্তু উভয় দেশের নেতাদেরও এটি শেষ করার ইচ্ছা থাকতে হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে মস্কোর শান্তি আলোচনার জবাব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, রাশিয়া আলোচনার টেবিলের পরিবর্তে ক্ষেপণাস্ত্র বেছে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই হামলায় বেসামরিক ভবন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন অফিস এবং বৃটিশ কাউন্সিলের কার্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই হামলার প্রতিবাদে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বৃটেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এই হামলাকে সন্ত্রাস ও বর্বর বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ক্রেমলিন ইউক্রেনকে ভয় দেখাতে চাইছে এবং নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে।
তবে রাশিয়া বরাবরের মতোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মস্কো বলছে, তাদের হামলা সামরিক শিল্প স্থাপনা এবং বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। তারা শান্তি আলোচনার বিষয়ে এখনও আগ্রহী বলে জানিয়েছে।
এদিকে, কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো এই হামলাকে সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে শহরের ওপর চালানো সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন। কয়েক ঘণ্টার হামলায় অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন এবং শহরের বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক রুশ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই হামলা আবারও প্রমাণ করলো, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৮:৫৬ ২৫ বার পঠিত