
গাজায় রক্তের মারাত্মক সঙ্কট। সেখানে ক্ষুধা ও ইসরাইলি হামলায় অবিরত মরছে মানুষ। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে তারা কমপক্ষে ১৩ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে আছেন নারী ও শিশুরা। সেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংসপ্রায়। রক্তদান কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কারণ অসহ্য ক্ষুধার কারণে মানুষ রক্ত দেয়ার মতো শক্তিও হারিয়ে ফেলেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হানী মাহমুদ আল জাজিরাকে জানান, শিশু ও প্রিয়জনদের বাঁচাতে মানুষ কান্নাকাটি করে রক্ত দিতে চাইছে। কিন্তু অপুষ্টি, পানিশূন্যতা ও দুর্বলতার কারণে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এখন গাজায় কেবল তিনটি হাসপাতালই (আল-শিফা, আল-আকসা, নাসের) কোনোমতে চালু আছে। ওদিকে গাজায় হামলার প্রতিবাদে ইসরাইলের অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে স্লোভেনিয়া। প্রতীকী হিসেবে এটা করা হয়েছে। কিন্তু এটা এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা। স্লোভেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তানজা ফায়োন এমন ঘোষণা দিয়েছেন। সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরাইলের সরকার আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বারবার লঙ্ঘন করছে। অবৈধ বসতি নির্মাণ, ভূমি দখল, ফিলিস্তিনি উচ্ছেদ-এসব আমরা আর মেনে নিতে পারি না। ওদিকে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রধান সিন্ডি ম্যাককেইন বলেছেন, ইসরাইলের অবরোধের কারণে গাজায় যে ব্যাপক মাত্রায় ক্ষুধা তৈরি হয়েছে, তা কেবল আকাশপথে খাবার ফেলেই সমাধান সম্ভব নয়। তিনি এক্সে লিখেছেন, আমরা বিমান থেকে খাবার ফেলে দুর্ভিক্ষ রোধ করতে পারব না। অন্তত গাজায় নয়। তিনি বলেন, দিনে ৫ লাখ মানুষ না খেয়ে আছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে খাবার পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হলো স্থলপথে সরবরাহ। তিনি আরও বলেন, আমরা সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমাদের হাতে সময় নেই- গাজায় আর খাবার নেই।
ওদিকে, গাজা শহরের একটি জাতিসংঘ পরিচালিত ক্লিনিক আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সেখানে বুধবার তৃতীয়বারের মতো ইসরাইলি যুদ্ধবিমান বোমা হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় শত শত বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এতে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। এর আগে ইসরাইলি বাহিনী ওই এলাকা থেকে লোকজনকে বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ জারি করে। ফলে বহু পরিবার সরে যায়। মিডল ইস্ট আই আরও জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যানজেলেস (ইউসিএলএ)-র ৫৮৪ মিলিয়ন ডলার ফেডারেল তহবিল স্থগিত করেছে। রয়টার্সের বরাতে বলা হয়, গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকার অভিযোগ করেছে, ইউসিএলএ সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এই বিক্ষোভে ইহুদিবিদ্বেষ সহ্য করেছে।
তবে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ইহুদি গোষ্ঠীও আছে। তারা বলেছে, ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ ও দখলদার নীতির বিরুদ্ধে সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষের সাথে গুলিয়ে ফেলা অন্যায়। এমন অবস্থায় আল জাজিরাকে জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ইসরাইলের জ্বালানি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা গাজার জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। তিনি জানান, গত দুই দিনে কারেম শালোম সীমান্ত থেকে মাত্র ৩ লাখ লিটার জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছে, যা জরুরি চাহিদার তুলনায় অতি অল্প। তিনি বলেন, ১০০ জনেরও বেশি অপরিপক্ব নবজাতকের জীবন এখন ঝুঁকির মধ্যে। কারণ ইনকিউবেটর চালাতে পর্যাপ্ত জ্বালানি নেই।
বাংলাদেশ সময়: ২২:০৫:২৫ ৭৩ বার পঠিত