
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে প্রস্তুতি শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা সফরে আসতে পারেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে এক বৈঠকে পল কাপুরের এই পরিকল্পিত সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পল কাপুর আগামী ৬ থেকে ৯ মার্চের মধ্যে ঢাকা সফর করতে আগ্রহী।
দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত এস পল কাপুরকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত করেছিলেন। মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির অনুমোদন শেষে গত অক্টোবরে তিনি এই পদে চূড়ান্তভাবে নিযুক্ত হন।
নিয়োগ পাওয়ার আগে মার্কিন সিনেটে দেওয়া এক শুনানিতে তিনি বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, তাঁর মূল লক্ষ্য হবে দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা জোরদার করা, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করা এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে কাজ করা।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পল কাপুরের এই সফরটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি বাংলাদেশের নির্বাচনের পর প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর হতে যাচ্ছে। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনও তাঁর নিয়োগের সময় চীনের সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন।
গত মাসে তিনি গণমাধ্যমের কাছে মন্তব্য করেছিলেন যে, চীনের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে যুক্ত হওয়ার যে কৌশলগত ঝুঁকি রয়েছে, তা তিনি নতুন সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘থিংক টোয়াইস অ্যাক্ট’ এবং নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের (এনএসএস) আলোকে ধারণা করা হচ্ছে যে, পল কাপুর ঢাকা সফরে চীন নিয়ে হোয়াইট হাউসের কঠোর অবস্থানের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করবেন।
পল কাপুর পেশাগত জীবনে একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুলে অধ্যাপনা করতেন এবং ২০২০-২১ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল ও যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেছেন।
তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্লারমন্ট ম্যাককেনা কলেজেও শিক্ষকতা করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই কর্মকর্তার সফরটি নির্বাচনের পর ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও ভিসা সংক্রান্ত নতুন কড়াকড়ির প্রেক্ষাপটে এই সফরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বাংলাদেশ সময়: ১২:৩৫:০৯ ২৭ বার পঠিত