ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী মাসরুর মোদিবিরোধী পোস্টের কারণে আমাকে গুম করা হয়েছিল

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল » ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী মাসরুর মোদিবিরোধী পোস্টের কারণে আমাকে গুম করা হয়েছিল
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬



মোদিবিরোধী পোস্টের কারণে আমাকে গুম করা হয়েছিল

র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন নম্বর সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরীকে জেরা শেষ হয়েছে।

বুধবার তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। জেরায় গুম-নির্যাতনের পেছনে শেখ হাসিনা দায়ী নন বলে দাবি করেন তার পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আমির হোসেন। তবে তার দাবি প্রত্যাখ্যান করে শেখ হাসিনাকেই দায়ী করেছেন সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী।

পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ মে দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ।

এদিন মাসরুর আনোয়ারকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী তাবারক হোসেন, আবুল হাসানসহ স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা। ১৯ এপ্রিল সাক্ষ্য দেন তিনি।

২০ এপ্রিল প্রথম দিনের মতো তার জেরা হয়। এদিকে বুধবার সকালে এ মামলায় গ্রেফতার ১০ জনকে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এদিন মাসরুর আনোয়ারকে জেরায় বিভিন্ন প্রশ্নের বাণে ফেলেন তারা। আটকের পর মোদিবিরোধী পোস্টটি দেখানো হয়েছিল কি না-আইনজীবীর প্রশ্নে মাসরুর জানান, নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মোদিবিরোধী পোস্টটি দেখানো হয় তাকে। কিন্তু মুছে ফেলতে বলা হয়নি। নিজেও তা সরিয়ে নেননি। তবে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডসহ সবকিছু তারা নিয়ে নেন; যা আর ফেরত দেওয়া হয়নি।

এ সময় সাক্ষীর উদ্দেশে আইনজীবী তাবারক বলেন, বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষ্যে ফেসবুকে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ার কারণে আপনাকে আটক বা গুম করা হয়নি। জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আটক করা হয়। জবাবে সত্য নয় বলে জানান মাসরুর।

তিনি বলেন, মোদিবিরোধী পোস্ট দেওয়ার কারণে আমাকে আটক করা হয়। জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। জেরায় তিনি উল্লেখ করেন, এটা সত্য নয় যে, কৌশল খাটিয়ে আমি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কথিত টিএফআই সেল পরিদর্শনে যাই। এরপর সবকিছু দেখে এ সংক্রান্ত একটি গল্প বা নাটক তৈরি করি। এছাড়া টিএফআই-সংক্রান্ত সব কথা অসত্য।

এ পর্যায়ে সাক্ষীর কাছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মসজিদ তৈরির অর্থ সংগ্রহের তথ্য জানতে চান তাবারক। একই সঙ্গে চ্যারিটির কার্যক্রমের আড়ালে জঙ্গি-তৎপরতা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রত্যুত্তরে মাসরুর বলেন, ‘আমার সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মসজিদ তৈরি করি। এ কাজের আড়ালে অন্য কোনো তৎপরতা চালানো হয়নি।

তাবারক দাবি করেন, আপনি মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের ‘মুক্তি পরিষদ’ নামে সংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয় একজন লোক। অথচ জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

জবাবে সত্য নয় জানিয়ে মাসরুর বলেন, মুক্তি পরিষদের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে জিয়াউল হককে বরখাস্তের খবরটিও জানা নেই।

এদিন এ মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হয়ে মাসরুর আনোয়ারকে জেরা করেন আমির হোসেন। মাসরুরকে গুম-নির্যাতন ও ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য তার মক্কেল শেখ হাসিনা দায়ী নন বলে দাবি করেন তিনি।

একই সঙ্গে ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য সাক্ষী নিজেই দায়ী বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন।

জবাবে মাসরুর বলেন, গুম-নির্যাতন ও আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য শেখ হাসিনা-ই দায়ী। কোনোভাবেই আমি দায়ী নই। ট্রাইব্যুনালে অসত্য কোনো সাক্ষ্য দেইনি।

এ মামলায় গ্রেফতাররা হলেন-র ্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র ্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম।

শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক অন্যরা হলেন-শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র ্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশীদ হোসেন, র ্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও র ্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম।

সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলাম উদয়সহ অন্যরা। এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নরসিংদীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরও দুমাস সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২২ জুন প্রতিবেদন জমার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বাংলাদেশ সময়: ১৩:০১:৫৬   ১৮ বার পঠিত  




আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’র আরও খবর


ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী মাসরুর মোদিবিরোধী পোস্টের কারণে আমাকে গুম করা হয়েছিল
মানবতাবিরোধী অপরাধ শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ৫ মে
সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুমের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার প্রমাণ পেয়েছে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি
ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান ‘মাননীয় আদালত, আমি বরখাস্ত নই অবসরপ্রাপ্ত’
শিবিরের দুই নেতাকে গুলি, অভিযোগ গঠনের আদেশ ২০ এপ্রিল
হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি ১৭ জুন
শহীদ তাইমের বাবাকে এসআই শাহাদাত এটা ওপরের অর্ডার, আমি গুলির কথা লিখতে পারব না
জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধাচরণের কারণে ইনুকে আসামি করা হয়েছে, দাবি আইনজীবীর
গুমের ৭ বছর পর অসুস্থ হয়ে পড়লে এসি লাগানো হয়: ট্রাইব্যুনালে আযমী
ট্রাইব্যুনাল নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার, যুবলীগ নেতার দুই মাসের কারাদণ্ড

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ