স্ত্রীর হাত ধরে কারাগারে পৌঁছলেন ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট সারকোজি

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » স্ত্রীর হাত ধরে কারাগারে পৌঁছলেন ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট সারকোজি
বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫



স্ত্রীর হাত ধরে কারাগারে পৌঁছলেন ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট সারকোজি

লিবিয়ার কাছ থেকে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি। এতে পাঁচ বছরের সাজা হয়েছে। মঙ্গলবার সেই সাজা ভোগ করতেই স্ত্রীর হাত ধরে কারাগারে গিয়েছেন সাবেক ওই প্রেসিডেন্ট। তাকে প্যারিসের লা সান্তে কারাগারে রাখা হবে। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন নিকোলা সারকোজি। বতর্মান পরিস্থিতি তার জন্য নাটকীয় পতন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, ৭০ বছর বয়সী সারকোজি তার স্ত্রী কারলা ব্রুনির হাত ধরে নিজ বাড়ি থেকে কারাগারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এ সময় তার সমর্থকরা ‘নিকোলা, নিকোলা’ বলে স্লোগান দেন এবং ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত গেয়ে উৎসাহ জানান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কারাদণ্ডে দণ্ডিত ফরাসি কোনো প্রেসিডেন্টের মধ্যে সারকোজিই প্রথম। এর আগে কেবল নাৎসি-সহযোগী মার্শাল পেটাঁ এমন পরিণতির মুখোমুখি হয়েছিলেন।

কারাগারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ বার্তায় সারকোজি বলেন, আজ সকালে যে ব্যক্তি কারাগারে যাচ্ছে, তিনি কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি নন। তিনি একজন নির্দোষ মানুষ। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ঘৃণার শিকার হয়েছেন তিনি। ২০১১ সালে আরব বসন্তে গাদ্দাফির পতনের অনেক আগে থেকেই গোপনে অর্থ নেয়ার অভিযোগ ওঠে সারকোজির বিরুদ্ধে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে গত মাসে আদালত রায়ে জানান, সারকোজি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে নির্বাচনী তহবিল বাড়াতে অবৈধ পন্থা অনুসরণ করেছেন।

সারকোজিকে লা সান্তে কারাগারের বিশেষ একক সেলে রাখা হবে। যেখানে বন্দীরা আলাদা কক্ষে থাকেন এবং বাইরে বের হওয়াও সীমিত। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করলে তিনি টেলিভিশন ও স্থায়ী ফোন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। কারাগারে প্রথম সপ্তাহে সারকোজি সঙ্গে নিয়ে গেছেন তিনটি বই, যার একটি হলো আলেক্সান্দ্রে দ্যুমার ক্লাসিক ‘দ্য কাউন্ট অফ মন্টে ক্রিস্টো’। যা একজন নির্দোষ ব্যক্তির প্রতারণার শিকার হয়ে কারাবন্দি হওয়া ও প্রতিশোধ নেয়ার গল্প।

সারকোজির কারাদণ্ডে তার সমর্থক ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। অনেকে বলছেন, এটা বিচার বিভাগের ক্ষমতার অপব্যবহার। সমর্থক জ্যাকলিন ফ্রাবুলে বলেন, নিকোলা সারকোজি কোনো অপরাধী নন। বিচার বিভাগের এই ক্ষমতা প্রদর্শন ফ্রান্সের জন্য ভালো নয়। এমনকি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন ও বিচারমন্ত্রী সারকোজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করায় বামপন্থী রাজনীতিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা এই সাক্ষাৎকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

সারকোজির এই সাজা ফ্রান্সে উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতীক। ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে রাজনীতিকরা প্রায়ই কারাদণ্ড এড়িয়ে গেছেন। বিপরীত পরিস্থিতিতে আজ সারকোজি সাজা খাটছেন, যদিও তার রাজনৈতিক প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আপিল হয়েছে এবং তার আইনজীবীরা বলছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে জামিনে মুক্তির আবেদন পর্যালোচনা হবে। তারা আশা করছেন, বড়দিনের আগেই তিনি মুক্তি পাবেন।

বাংলাদেশ সময়: ০:১৯:৪০   ২৫২ বার পঠিত  




আন্তর্জাতিক’র আরও খবর


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ইস্যুতে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন ভারতের মুখপাত্র
বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
ভারতের সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন বিএনপি’র বিজয় ও তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে নয়া দিল্লি
মিশরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
ইরানের বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় বিস্ফোরণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ন্যায়বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলল এইচআরডব্লিউ
ভারতে বাংলাদেশি দম্পতিকে রাস্তায় ফেলে পেটালেন এক চিকিৎসক
কেন্দ্রের আশ্বাসের পর আন্দোলন স্থগিত করল ককরোচ জনতা পার্টি
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তেহরানের নির্ভুল লক্ষ্যভেদের সক্ষমতার প্রমাণ: নিউইয়র্ক টাইমস
ট্রাম্পের নতুন শুল্কে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বহু দেশের

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ