কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গত পাঁচ দিনে তিন দফায় ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সর্বশেষ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়। এর আগে দুই দফার অভিযানে ৮৭৮ জনকে আটক করা হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্যাংয়ের নেতৃত্বদানকারীদেরও আটক করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় নাগরিকদের অভিযোগ, কুমিল্লায় সক্রিয় বিভিন্ন গ্যাংয়ের অনেক নেতা এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব গ্যাং গড়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে শনিবারের অভিযানে আটক ২৫৪ জনের মধ্যে ১৪৬ কিশোরকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বাকি ১০৮ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের অভিযানে আটক ৬২৪ জনের মধ্যে ৪৫১ কিশোরকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং ১৭৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। শনিবারের অভিযানে ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ আনিসুর রহমান ওরফে আনিকসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কুমিল্লা মহানগরীতে ২৪টির বেশি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর এসব গ্যাংয়ের আধিপত্য ও তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অপ্রতিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ অন্য আসামিরা বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৫:১২ ১৭ বার পঠিত #অপরাধ #আইন-শৃঙ্খলা #কিশোর গ্যাং #কুমিল্লা #গ্রেফতার #পুলিশ অভিযান