প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ

প্রথম পাতা » অপরাধ » প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬



প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রোকনপুর গ্রামে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের পর মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনায় দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেছেন মামলার অভিযুক্তরা। তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, পূর্ববিরোধে প্রতিপক্ষকে হয়রানি এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই হাদিস উল্লা পরিকল্পিতভাবে এ মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, গত ১৬ই জুলাই হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রোকনপুর গ্রামের হাদিস উল্লা বাদী হয়ে একই গ্রামের ইছমত উল্লা (৬৫), সোহেল মিয়া (৩৫), হান্নান মিয়া (৩২), আলাল মিয়া (৩০), জালাল মিয়া (২৮), মিলন মিয়া (২৬) ও রুমন মিয়া (২৫)-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

অভিযুক্তরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে আলাল মিয়া তার বসতবাড়িতে মাটি কেটে সমতল করলে হাদিস মিয়া বাধা দেয়। এ ছাড়া ওইদিন হাঁস-মুরগি নিয়ে নারীদের মধ্যে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে হাদিস উল্লা তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ দিয়ে আসছেন। বর্তমান মামলাটিও সেই বিরোধেরই ধারাবাহিকতা। তারা বলেন, মামলায় যেভাবে সংঘবদ্ধ হামলা, অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর এবং মৃত সন্তান প্রসবের অভিযোগ আনা হয়েছে, বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বরং মামলাটি সাজিয়ে তাদের হয়রানি ও আইনগতভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই নারীকে কেউ মারধর করেনি। এদিকে মামলার অন্যতম আসামি মোহাম্মদ আলাল মিয়া নবীগঞ্জ থানায় পৃথক একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, গত ৩রা জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রোকনপুর গ্রামের মাহমুদ মিয়ার বাড়ির সামনের রাস্তায় পূর্ব বিরোধের জেরে তার ছোট ভাই ওয়াহিদ উল্লাহর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। লিখিত অভিযোগে আলাল মিয়া উল্লেখ করেন, হাঁস-মুরগি নিয়ে নারীদের মধ্যে কথাকাটাকাটির জেরে এবং পূর্বশত্রুতার ধারাবাহিকতায় বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ভাই ওয়াহিদ উল্লাহ মিলনের পথরোধ করে এলোপাতাড়ি মারধর করে।

এতে তার ডান হাত ভেঙে যায়। মুখ, বুক, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন তারা। এ ছাড়া তার প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ ২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভাইকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। পরে গুরুতর আহত ওয়াহিদ উল্লাহকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া হাদিস উল্লার স্ত্রী হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় ভর্তি হয়।

৫ই জুলাই মা ও বাচ্চা সুস্থ বলে তাকে সদর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। পরে ৮ই জুলাই প্রচার করে তার মৃত সন্তান প্রসব করেছে এবং গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন করে। অন্যদিকে হাদিস উল্লার দায়ের করা মামলার অভিযুক্তরা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। তারা দাবি করেন, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

বাংলাদেশ সময়: ৯:০৯:৩৭   ১৮২ বার পঠিত  




অপরাধ’র আরও খবর


চুল কাটতে বলায় শিক্ষককে কলম দিয়ে আঘাত করল নবম শ্রেণির ছাত্র
মাদারীপুরে জেলা জজের বাসভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচার ও অভিযুক্তদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণের দাবি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ৯০ লক্ষ টাকার ৩০হাজার পিস ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার
নোয়াখালীতে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা, সাবেক স্ত্রী ও শাশুড়ি আটক
গাজীপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার পর লাশের পাশে বসে ধূমপান করলেন স্বামী
রংপুরে চার খুনের ঘটনায় আসামিদের ডিএনএ শনাক্ত
আশুলিয়ায় মেডিক্যাল কলেজের জমিতে আড়ত নির্মাণ, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ
বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ: ১২ সদস্যের চক্র আটক
আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ