নতুনের আবাহনে পহেলা বৈশাখের আগমন

প্রথম পাতা » জাতীয় » নতুনের আবাহনে পহেলা বৈশাখের আগমন
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬



নতুনের আবাহনে পহেলা বৈশাখের আগমন

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’-নতুন সূর্যের উদয়ের সাথে সাথে আজ সূচিত হচ্ছে বঙ্গাব্দ ১৪৩৩। পুরোনো বছরের সব ব্যর্থতা, জীর্ণতা আর অবসাদ পেছনে ফেলে নতুন স্বপ্ন, সুখ ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় আজ উৎসবে মাতবে গোটা জাতি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসব পরিণত হবে প্রাণের স্পন্দনে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী একটি স্বস্তিকর ও গণতান্ত্রিক আবহে এবার বর্ষবরণ করছে বাংলাদেশ। যদিও বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও অস্থিরতার এক নেতিবাচক ছায়া বিদ্যমান, তবুও নববর্ষের এই ক্ষণ বাঙালির হৃদয়ে বয়ে আনছে শান্তির বার্তা। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের যেখানেই বাঙালি রয়েছে, সেখানেই আজ উদযাপিত হচ্ছে এই মিলনমেলা। একই সঙ্গে পার্বত্য জনপদেও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো তাদের ঐতিহ্যবাহী রীতিতে মেতে উঠেছে বর্ষবরণ উৎসবে।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পৃথক বাণীতে তারা উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে পহেলা বৈশাখকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বার্তায় নববর্ষকে জাতিসত্তার পরিচয় ও গণতন্ত্রের শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মুঘল সম্রাট আকবরের সময় খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে যে ‘ফসলি সনের’ প্রবর্তন হয়েছিল, তা-ই আজ বাঙালির ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘বঙ্গাব্দ’। কালের বিবর্তনে গ্রামীণ মেলা, চৈত্রসংক্রান্তির পূজা আর ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’র গণ্ডি পেরিয়ে নববর্ষ এখন বাঙালির প্রধান নাগরিক উৎসবে রূপ নিয়েছে। তবুও এর মূল সুরটি আজও মিশে আছে কৃষিজীবী মানুষের মাটির টানে।

রাজধানীর রাজপথ আজ বর্ণিল সাজে সজ্জিত। ভোরের আলো ফুটতেই রমনার বটমূলে ছায়ানটের চিরাচরিত সুরের মূর্ছনায় শুরু হবে দিনের কর্মসূচি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হবে বর্ণাঢ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। এছাড়া ধানমন্ডিসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তরুণ-তরুণীদের পরনে লাল-সাদা পোশাক, হাতে চুড়ি আর কপালে টিপ-সব মিলিয়ে ঢাকা আজ এক রঙিন ক্যানভাস।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিসিকের বৈশাখী মেলা এবং শেরেবাংলা নগরে এসএমই ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শুরু হয়েছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রদর্শনী। শুধু ঢাকা নয়, নেত্রকোনার ‘খনার মেলা’ থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের ‘হাটহাজারীর মেলা’-সবখানেই বইছে উৎসবের আমেজ।

সরকারি ছুটির এই দিনে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সম্প্রচারিত হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সব মিলিয়ে জরাজীর্ণকে বিদায় দিয়ে একটি ইতিবাচক আগামীর প্রত্যাশায় আজ বুক বেঁধেছে ষোল কোটি বাঙালি।

বাংলাদেশ সময়: ৪:২৮:১৪   ১৩৬ বার পঠিত  




জাতীয়’র আরও খবর


খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ
আজ থেকে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব
আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না যে ৮ শ্রেণির পরিবার
সরকারি প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ ২২ হাজার পদ শূন্য
মন্ত্রীকে না জানিয়ে সরকারি সফরে এপিএস, গুদাম পরিদর্শনের পর অব্যাহতি
পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের সিদ্ধান্ত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে হবে: আইনমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলি
তারল্যসংকটে থাকা ছয় ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দরের ১,২০০ কোটি টাকা আটকা

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ