
দেশ জুড়ে হামের ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১৯ দিনে দেশে ৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের সন্দেহজনক মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। হাম প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রোববার থেকে সারা দেশে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পুরো জেনারেশন কাভার হওয়া পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী বাচ্চাদের হামের টিকা দেয়া হবে। পাশাপাশি এপিআই’র অন্য টিকা কার্যক্রমও চলবে। সেইসঙ্গে হাম মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শয্যাও প্রস্তুত করা হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪৭ জন। সবমিলিয়ে গত ১৫ই মার্চ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৯২ জনে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৪২ জন। তাদের নিয়ে গত ১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭১ জনে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক ৩ জন হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের নিয়ে গত ১৫ই মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৯৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, রোববার থেকে দেশে হামের টিকা দেয়া শুরু হবে। তবে এখন যেসব এলাকায় রোগটি ছড়িয়েছে সেখানে টিকা দেয়া শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে টিকা পাবে শিশুরা।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার আদেশে বলা হয়, সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সব চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
হাম প্রতিরোধে বর্তমান সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এ হামজনিত নিউমোনিয়া শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক পরামর্শক ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণকে আশ্বস্ত করা এবং সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে সবার ভূমিকা অপরিহার্য। বাংলাদেশ অতীতেও বড় বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। দৃঢ় নেতৃত্ব, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ বিষয়ে আমরা আশাবাদী।
বাংলাদেশ সময়: ০:৪৪:৪০ ১১ বার পঠিত