
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো কোনো চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, এমন চিঠি আদালত অবমাননাকর। এ রকম চিঠি দেওয়ার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের কাছে এ রকম কোনো চিঠি আসেনি। গণমাধ্যম থেকে আমরা জানতে পেরেছি, এরকম একটা চিঠি দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে যখন অনেক শক্তিশালী মানুষের বিচার চলছে, তখন কিংসলে ন্যাপলি নাম দিয়ে আমাদের সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। এটা ভিত্তিহীন বিষয়।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব করা হচ্ছে। আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না। ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক গতিতে চলবে। কথিত ওই ল’ ফার্মের কোনো অস্তিত্ব বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া গেলে বা কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের আরও বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বুধবার জানতে পেরেছি কিংসলে ন্যাপলি নামের একটি ‘ল ফার্ম (আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান)’ শেখ হাসিনার পক্ষে একটি চিঠি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অথবা প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) মেইলে এ রকম কোনো চিঠি আসেনি।
কিছু সাংবাদিক কীভাবে পেয়েছেন, তা জানি না। একজন সাংবাদিক আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে সেই চিঠির একটি কপি দিয়েছেন। সেই চিঠির কপি থেকে যেটুকু জেনেছি, তার ওপরে অ্যাড্রেস আছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। নিচে লেখা আছে ‘ডিয়ার আইসিটি’। চিঠির প্রথম প্যারাগ্রাফে লেখা আছে, উই অ্যাক্ট অন বিহাফ অব শেখ হাসিনা (শেখ হাসিনার পক্ষে)। এটুকু পড়লেই বোঝা যায়, কত মানের ইম্যাচিউরড (অপরিপক্ব) একটা লেটার যে কীভাবে কাকে অ্যাড্রেস করতে হয়, তা তারা জানে না।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের কোনো বিচারককে যদি অ্যাড্রেস করতে হয়, তাহলে কি ‘ডিয়ার আইসিটি’ বলবে নাকি ‘অনারেবল জজ’ বলবে? যদি ব্রিটিশ ল’ ফার্মের পক্ষ থেকে হয়, তাহলে তাদের এটুকু জানার কথা। এটা তো মনে হচ্ছে একেবারে একটা ভুয়া চিঠি। কিংবা কোনো ভুয়া ল’ ফার্ম দেশ থেকে হচ্ছে কিনা; কেরানীগঞ্জ-জিনজিরা থেকে হচ্ছে কিনা, তা বলা যাচ্ছে না। এ রকম উড়োচিঠি আসার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের কোনো কার্যক্রম বিতর্কিত হবে না বলেও উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সম্পর্কে চিঠিতে যা বলেছে, তা কোনো ল’ ফার্মের আইনগতভাবে বলার অধিকার নেই। কারণ, শেখ হাসিনা পলাতক।
জানা যায়, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে ৩০ মার্চ ই-মেইলে ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠায় লন্ডনের কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
তানভীর জোহার বক্তব্য ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির বক্তব্য নয় : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয় থেকে সিসি ক্যামেরার ভিডিও গায়েব নিয়ে ট্রাইব্যুনালের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ প্রসিকিউটর তানভীর জোহার গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, বুধবার যিনি (তানভীর জোহা) এ বিষয়ে ব্রিফিং করেছেন তিনি আমাদের সঙ্গে আলাপ করে করেননি। তার বলার কথা নয়। বিষয়টি আমাদের তদন্তাধীন বিষয়। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি যদি এরকম ড্রাইভ থাকা না থাকা বা রিপ্লেসমেন্ট হওয়া বা না হওয়ার কোনো কিছু থাকে-তাহলে তদন্তের পরই প্রকাশ করা উচিত ছিল। উনি মিডিয়ার সামনে যা বলেছেন, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির বক্তব্য হতে পারে না।
বুধবার ট্রাইব্যুনালের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ প্রসিকিউটর তানভীর জোহা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সিসি ক্যামেরার ভিডিও গায়েবের নেপথ্যে হার্ডড্রাইভ বদল করার তথ্য পেয়েছেন তিনি। গায়েব হওয়া সেই ভিডিও প্রযুক্তি ব্যবহার করেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে জানানো হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায়ই প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনাল সিসি টিভি ফুটেজ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তাদের কোনো ফুটেজ গায়েব হয়নি। গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ট্রাইব্যুনালের সিসি টিভি ফুটেজ থাকা না থাকার বিষয়ে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি এখনো কোনো কাজ শুরু করেনি। কমিটির পক্ষ থেকে প্রসিকিউটর জোহাকেও এ বিষয়ে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি এ বিষয়ে কমিটিকে কিছু জানাননি। সিসি টিভি ফুটেজ থাকা না থাকার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য তার ব্যক্তিগত। অনুসন্ধান চলাকালে এ ধরনের বক্তব্য অনভিপ্রেত।
এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পুনঃতদন্ত চেয়ে করা জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে এখনো সবার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশ সময়: ০:৪৫:২১ ৭ বার পঠিত