মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্যান্য পত্রিকার খবর তফসিলের পর ২৩৭ ‘সহিংস’ ঘটনা

প্রথম পাতা » জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ » অন্যান্য পত্রিকার খবর তফসিলের পর ২৩৭ ‘সহিংস’ ঘটনা
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



তফসিলের পর ২৩৭ ‘সহিংস’ ঘটনা

প্রথম আলো

তফসিলের পর ২৩৭ ‘সহিংস’ ঘটনা-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর গত ৬০ দিনে ২৩৭টি ‘সহিংস’ ঘটনা ঘটেছে। নিহত হয়েছেন ১৭ জন। যদিও সরকারের দাবি, নিহতের ঘটনার মধ্যে ৫টিকে সরাসরি রাজনীতিসংশ্লিষ্ট বলা যায়। অন্যদিকে আহত হয়েছেন ১ হাজার ১০৯ জন।

বাংলাদেশে নির্বাচনকালে রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন নয়। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে, ২০০১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ভোট গ্রহণের পরের চার দিন পর্যন্ত সহিংস ঘটনায় মারা গেছেন ৮৯ জন। আহত ব্যক্তির সংখ্যা ২ হাজার ৬৫১ জন। সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয়েছিল ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। একতরফা সেই নির্বাচনে ৫৩ জনের মৃত্যু হয় (২৫ নভেম্বর, ২০১৩ থেকে ৯ জানুয়ারি, ২০১৪)।

পুলিশের হিসাবে, সবচেয়ে কম সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল ২০০৮ সালে। তাদের হিসাবে মারা গেছেন ১ জন, আহত ৪ জন। ওই বছরের ক্ষেত্রে অবশ্য পুলিশ ২ নভেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বরের হিসাব দিয়েছে। নির্বাচন হয় ২৯ ডিসেম্বর (২০০৮)।

২০০১ থেকে ২০২৪ সালের পাঁচ নির্বাচনে আলোচ্য সময়ে সহিংসতায় চারজন পুলিশের সদস্যের মৃত্যু হয় (২০১৪ সালে)। আর আহত ১ হাজার ৬ জন (ইনফোগ্রাফিকসে এই তথ্য যুক্ত নয়)।

পুলিশের একটি হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এবারের নির্বাচনে গত ১২ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর গত ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সহিংস ঘটনা ঘটেছে ২০০টি। এরপর প্রথম আলোতে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৭টি সহিংস ঘটনা পাওয়া যায়।

নির্বাচনে প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি, ভীতি প্রদর্শন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, প্রচারকাজে বাধা দেওয়া, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাকে মোটাদাগে সহিংস ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে পুলিশের একটি প্রতিবেদনে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) সংকলিত হিসাবে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১৬২টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজন মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি এবং বিএনপির তিনজন ও জামায়াতে ইসলামীর একজন রয়েছেন। আহত হয়েছেন ৯৭০ জন।

এর বাইরে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহিংস ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৩৯ জন। সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ১০৯।

সর্বশেষ গত রোববার দিবাগত রাত থেকে গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত পাঁচ জেলায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ, কার্যালয়ে আগুন ও গাড়িবহরে হামলার মতো অভিযোগ করছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা। এসব ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

এর মধ্যে লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহমেদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা রয়েছে। রোববার রাতের এ হামলায় তিনজন আহত হন।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি-ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেটা অতীতের একতরফা নির্বাচনগুলোর মতো এতটা ভয়াবহ নয়। তিনি বলেন, প্রতিটি সহিংসতার ঘটনায় অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে সব ঘটনায় নির্বাচনকেন্দ্রিক হয়নি। কিছু ঘটনা ঘটেছে স্থানীয় দ্বন্দ্বের কারণে।

খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সামনের যে কয়েকটি দিন রয়েছে, এই সময় যাতে কোনো সহিংসতা না হয়, সে জন্য পুলিশ কাজ করছে।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হবে প্রচারের সময়। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামেন প্রার্থীরা।

নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে বিশেষভাবে তৎপর থাকবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনী ইতিমধ্যে অভিযান জোরদার করেছে। এবার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হয়েছিল ৫ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্র। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪৩২টি উদ্ধার হয়েছে। হয়নি ১ হাজার ৩৩০টি।

খুন

তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে। হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ (নিষিদ্ধঘোষিত) নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে পুলিশের দাবি।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের তেজতুরী বাজার এলাকায় গত ৭ জানুয়ারি গুলি করে হত্যা করা হয় বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজের রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে। তবে পুলিশ বলছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লা (৪২) গুলিবিদ্ধ হওয়ার দুই দিন পর গত ২৪ জানুয়ারি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত ২৯ জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রেজাউল করিম।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তফসিল ঘোষণার পর নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে শহীদ হাদি ছাড়া বিএনপির ১৩ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর ২ জন রয়েছেন। একজন যুবলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা। তাঁদের সাতজনকে গুলিতে, পাঁচজনকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং বাকি পাঁচজনকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, সবাই চান যেকোনো মূল্যে সংসদ সদস্য হতে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণেই এ দেশে নির্বাচনে সহিংসতা হয়। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, সহনশীলতা ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকায় নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা বেশি ঘটে।

প্রথম আলোর আরেক খবরে বলা হয়,দুই দেশের অংশীদারত্ব বাড়াতে নির্বাচনের পর পল কাপুরকে ঢাকায় পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সময় ঢাকা-ওয়াশিংটন অংশীদারত্ব এগিয়ে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে মার্চের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা সফরে আসতে পারেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো প্রথম আলোকে জানিয়েছে, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত রোববার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে আলোচনায় পল কাপুরের পরিকল্পিত সফরের প্রসঙ্গটি তোলেন। আগামী ৬ থেকে ৯ মার্চ ঢাকায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পল কাপুর।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পল কাপুরকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত করেন। পরে ট্রাম্পের এই মনোনয়ন মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে অনুমোদন পায়। গত অক্টোবরে পল কাপুরের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।

গত বছরের জুন মাসে সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির শুনানিতে পল কাপুর বলেছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি বৃহত্তর। মনোনয়ন নিশ্চিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা জোরদার, চীনের প্রভাব মোকাবিলা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবেন।

পল কাপুরের মতো ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসনও তাঁর নিয়োগ নিয়ে মার্কিন সিনেটের শুনানিতে চীনের প্রসঙ্গটি নিয়ে কথা বলেছিলেন। আর গত মাসে ঢাকায় প্রথম আলোসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। এ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেছিলেন, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ততার বিষয়ে ঝুঁকির যে বিষয়টি রয়েছে, তা তিনি স্পষ্টভাবে অন্তর্বর্তী সরকার বা নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে তুলে ধরবেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সিনেটে ‘থিংক টোয়াইস অ্যাক্ট’ পাস আর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল (এনএসএস) ঘোষণার পর চীনের সঙ্গে দেশটির দ্বৈরথের বিষয়টি বেশ স্পস্ট। ফলে নির্বাচনের পর পল কাপুর ঢাকায় এলে নতুন সরকারের কাছে হোয়াইট হাউস বা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন নিয়ে অবস্থান বেশ খোলামেলাভাবেই তুলে ধরবেন। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প অভিবাসননীতি নিয়ে যা বলতেন, ভিসা বন্ডের মতো নানা পদক্ষেপ নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, নিজের অবস্থান থেকে সরেননি। ফলে চীন নিয়ে কঠোর অবস্থানেই থাকবেন ট্রাম্প।

পল কাপুর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার আগে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুলে অধ্যাপনা করেছেন।

২০২০-২১ সালে পল কাপুর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছিলেন। সে সময় তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেছেন।

এই দায়িত্ব পাওয়ার আগে পল কাপুর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লারমন্ট ম্যাককেনা কলেজে শিক্ষকতা করতেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভিজিটিং অধ্যাপক ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আমহার্স্ট কলেজ থেকে স্নাতক করেন। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে করেন পিএইচডি।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর‘সহিংসতার আলোচনায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুলপ্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।

অন্যবারের চেয়ে এবার নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা বেশি। নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, সহিংসতার আশঙ্কাও তত বাড়ছে। আর এতে জনমনে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। তবে এমন আতঙ্ক দূর করার পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তা এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এবারই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবারের নির্বাচনে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। শুধু সশস্ত্র বাহিনী থেকেই ১ লাখ ৮ হাজারের মতো সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। এই সংখ্যা ২০২৪, ২০১৮ ও ২০০৮ সালের তুলনায় অনেক বেশি। আগের তিন নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ করা হয় ৪০ থেকে ৪২ হাজার। এছাড়াও এবার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার।

সেনাবাহিনীর ‘ইন অ্যাইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আগে থেকেই সারা দেশে সেনা মোতায়েন আছে। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন তারা। এছাড়া নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

এবারের নির্বাচনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য থাকবেন ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন। বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, র‌্যাবের প্রায় ৮ হাজার, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫০০ এবং ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার সদস্য নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাড়ে ৬ লাখ, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬ লাখ ৮ হাজার এবং ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৪ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচনি নিরাপত্তার বিষয়ে সোমবার রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য নগরবাসীর নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে নাগরিক অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ বছর ঢাকা মহানগর এলাকায় ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, ভোটার সংখ্যা ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে ভোট কেন্দ্রগুলোকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ১ হাজার ৬১৪টি ভোটকেন্দ্রে চারজন করে এবং সাধারণ ৫১৭টি ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া আমরা আরও ৩৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে চিহ্নিত করেছি। এই ৩৭টি কেন্দ্রে সাতজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি জানার জন্য একজনের কাছে থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা।

কালের কণ্ঠ

‘বোরকা-নেকাবের আড়ালে জাল ভোটের আশঙ্কা’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘনিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তোড়জোড় চলছে ভোটের দিনের। তবে এরই মধ্যে বোরকা, হিজাব ও নেকাব ব্যবহার করে জাল ভোটের আশঙ্কা করছে অনেকে।

গতকাল শনিবার বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা খবর পাচ্ছি, ধর্মীয় অনুভূতিকে অপব্যবহার করে এবং জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক বোরকা ও নেকাব প্রস্তুত করা হয়েছে।’অন্যদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন, জাল ভোট দিতে ৫০ হাজার বোরকা অর্ডার দিয়েছে জামায়াত। ’

একই আশঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেন, ‘শুনলাম একটা দল নাকি ৪০ লক্ষ বোরকা বানাইছে। অর্থাৎ পুরুষরা মহিলাদের বুথে ভোট দিতে যাবে—এমনটাও হতে পারে।’

তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৭২ অনুযায়ী এমনটা সম্ভব নয় বলেই বলছে ইসি। গণপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৭২ এর ৩১ এর (১) ধারা অনুযায়ী ‘যে ক্ষেত্রে কোনো ভোটার ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন, সে ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসার ভোটার তালিকার সহিত মিলাইয়া পরীক্ষান্তে তাহার পরিচয় সম্পর্কে সন্তুষ্ট হইবার পর তাহাকে একটি ব্যালট পেপার সরবরাহ করিবেন।’ একই সাথে ৩১ এর (৩) ধারা অনুযায়ী ‘কোনো ব্যক্তি অমোচনীয় কালিতে ব্যক্তিগত চিহ্ন গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিলে বা তিনি উক্তরূপ চিহ্ন বা ইতোমধ্যে ইহার অবশিষ্টাংশ বহনকালে তাহাকে ব্যালট পেপার সরবরাহ করা হইবে না।’

গত সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভোটকেন্দ্রে যার যার রুচিমাফিক, যার যার অভ্যাসমতো পোশাক পরবেন।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনমা‘প্রচার শেষ, ভোটের অপেক্ষা’। খবরে বলা হয়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। গত শনিবার ওই সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আলু ক্ষেতের মধ্য দিয়ে দৌড়াদৌড়ি ও ককটেল বিস্ফোরণের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে বাড়িঘরে আগুন ও সংঘর্ষের ঘটনায় মুস্তাকিম মিয়া (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। শুধু মুন্সীগঞ্জ ও নরসিংদী নয়, ১১ ডিসেম্বরে তপশিল ঘোষণার পর থেকে গত রোববার পর্যন্ত ৫৮ দিনে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক, পারিবারিক, ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত বিরোধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার মধ্যে ৩৪টিতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়। পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এতে দেখা যায়, অস্ত্রের ব্যবহার বেশি হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। ‘শুটিং ইনসিডেন্ট’ হিসেবে বিবেচিত গুলির ঘটনার ৪৬ শতাংশ এই দুই বিভাগে ঘটেছে। অস্ত্রের ব্যবহার কম হয়েছে ময়মনসিংহ, রংপুর ও গাজীপুর মহানগরে। পুলিশের লুণ্ঠিত এক হাজার ৩৩১টি অস্ত্র ও দুই লাখ রাউন্ডের বেশি গুলিএখনও বেহাত।

প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৭৬৮ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৬ জন। তবে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসন বাদে ২৯৯ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ২৯ জন। ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১; নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ১ হাজার ১২০ জন।

এবারই প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে ইসি। বিশ্বের ১২২ দেশের প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়াও দেশের ভেতরে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং আইনি হেফাজতে থাকা কারাবন্দিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ এবং দেশের অভ্যন্তরে আইসিপিভি ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। ইতোমধ্যে ৫ লাখ ৭ হাজার ৭০৫ প্রবাসী এবং দেশের ভেতরে অবস্থিত ৪ লাখ ৭৩ হাজার ১৪৪ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৭৯টি। ভোট কক্ষের (বুথ) সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। গড়ে প্রতি ৩ হাজার ভোটারের জন্য একটি করে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ভোট গ্রহণের জন্য ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে ৪২ হাজার ৭৭৯ প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে ইসি জানায়, ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে পর্যবেক্ষণে থাকবেন। এ ছাড়া প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

ইত্তেফাক

‘পবিত্র রমজান মাসের আগেই সয়াবিনের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস অতি সন্নিকটে। রমজান মাসে অতি চাহিদাপূর্ণ সয়াবিন তেল নিয়ে কারসাজি শুরু করেছে অতিমুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে সয়াবিনের দাম প্রতি মণে প্রায় ২০০ টাকা বেড়েছে। সামনে আরো বৃদ্ধির পাওয়ার আশঙ্কা করছেন পাইকারি বিক্রেতারা। পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগ মিল থেকে সয়াবিনের সরবরাহ কমে গেছে। অনেক বিক্রেতার কাছে সয়াবিন নেই। রমজানের আগে আরো বৃদ্ধি পাবে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র জানায়, গত নভেম্বর মাসে সয়াবিন আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৮৭ মেট্রিক টন, ডিসেম্বর মাসে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন ও জানুয়ারিতে ৩ লাখ ৩১ হাজার ১০৩ মেট্রিক টন।

গতকাল পাইকারি বাজারে খোলা সয়াবিন প্রতি মণ দাম বেড়ে ৭ হাজার ৫০ টাকা ও পামঅয়েল প্রতি মণ ৫ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাইকারি বাজারে চিনি ও ছোলাসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন করে বাড়েনি। কিন্তু সয়াবিন তেল নিয়ে বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। খাতুনগঞ্জে সোনা মিয়া মার্কেট সয়াবিন ও পামঅয়েলের প্রধান পাইকারি বাজার। এখানে শতাধিক পাইকারি তেল ব্যবসায়ী রয়েছে। রয়েছে কয়েক শত ব্রোকার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতায় সরব থাকে।

সয়াবিনের পাইকারি বিক্রেতার মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ‘বাজারে সয়াবিনের সরবরাহ কমে গেছে। বলতে গেলে বাজারে মাল নেই। এখন আমরা আগের কেনা তেল বিক্রি করছে। মিল থেকে মাল মিলছে না। বাজারে মেঘনা ও টিকে এই দুই গ্রুপের সয়াবিন রয়েছে। অন্য কোনো কোম্পানির সয়াবিন বাজারে সরবরাহ নেই। নতুন করে সয়াবিন করলে প্রতি মণ সাড়ে ৭ হাজার দরে কিনতে হবে।’

ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক আবুল বশর চৌধুরী বলেন আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম বেড়ে গেছে। আর আমদানিকারকরা বুকিং কমিয়ে দিয়েছে। রমজানের আগে দাম আরো বাড়বে কিনা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি হলে দাম বাড়বে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম‘দুই জোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই’। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভোটের নতুন সমীকরণ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভোটারদের মনোভাব কোন দিকে ঝুঁকছে- তা জানতে পরিচালিত এক প্রাক-নির্বাচনী জরিপে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে প্রকাশিত জরিপের ফলাফলে ভোটের হিসাবে বিএনপি সামান্য এগিয়ে থাকলেও তুলনামূলক বেশি আসনে জামায়াত এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দিচ্ছে।

এতে বলা হয়, ৪৪.১ শতাংশ ভোট বিএনপি পাচ্ছে, আর জামায়াতের ভোট ৪৩.৯ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী জামায়াত ১০৫টি আসনে জয় পেতে পারে, আর বিএনপি পেতে পারে ১০১টি আসন। অন্য দিকে অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেতে পারেন ১৯টি আসনে। এ ছাড়া ৭৫টি আসনে বিএনপি ও জামায়াত দুই প্রধান জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পুরো নির্বাচনী মাঠে এক কঠিন ও হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে জরিপে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (আইআইএলডি) এবং জার্নাল অব ডেমোক্র্যাসির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপে জাতীয় নির্বাচনে এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে প্রাক নির্বাচনী জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহীন আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপের এই ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, গত ২২ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৬ দিন সারা দেশে একযোগে ৩০০টি আসনে তাদের টিমের সদস্যরা এই জরিপ পরিচালনা করেন। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি প্রথমবার নির্বাচনী জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

গতকাল প্রকাশিত জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট নিয়েও জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে সংস্থাটি। গণভোট নিয়ে প্রকাশিত জরিপে দেখা যায় জরিপে অংশ নেয়া ৭৪.৯ ভাগ মানুষ গণভোট সম্পর্কে অবহিত আছেন এবং ২৫.২ ভাগ মানুষ এখনো জানেন না। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়ার কথা বলেছেন ৮৯.৬ ভাগ ভোটার এবং ‘না’ ভোটের কথা বলেছেন ৯.১ ভাগ।

জরিপের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি: সংশ্লিষ্টরা জানান, জরিপের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোটারদের মনোভাবের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা। একই সাথে ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে এমন প্রধান ইস্যুগুলো চিহ্নিত করা এবং ভোটারদের ধর্মীয় পরিচয়, সামাজিক অবস্থান ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সাথে রাজনৈতিক পছন্দের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা এই গবেষণার অন্যতম উদ্দেশ্য।

এই জরিপে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রতিটিকে একটি করে ক্লাস্টার ইউনিট বা স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করা হয় দুই ধাপে। প্রথম ধাপে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডগুলোকে প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট হিসেবে দৈবচয়ন বা র‌্যান্ডম পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত এলাকা থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ জন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এভাবে প্রতি নির্বাচনী এলাকায় মোট ১০০ থেকে ৩০০ জন উত্তরদাতার মতামত নেয়া হয়।

বণিক বার্তা

‘রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ক্ষমতায় না, ব্যালটে ৫০ শতাংশ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটারের অর্ধেকই নারী। এ নির্বাচনে নারী ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, যা মোট ভোটারের ৪৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীরা পিছিয়ে থাকলেও ব্যালটের শক্তিতে তারা পুরুষের সমান। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের পর নির্বাচন কমিশন যে তালিকা দিয়েছে, সে অনুসারে মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৪ শতাংশ।

বিভিন্ন মহলের মূল্যায়নে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই তিন নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নারীরা যে পক্ষে বেশি ভোট দিয়েছেন, সেই দলই বিজয়ী হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে পুরুষের তুলনায় নারীদের বেশি ভোট দেয়ার প্রবণতাও বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে। তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনেও নারী ভোটারদের ভোট জয়-পরাজয় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

দেশের কৃষি, তৈরি পোশাক ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতে জড়িত রয়েছেন ২ কোটি ৭৯ লাখের বেশি নারী। এদের বেশির ভাগই ভোটার। এর পাশাপাশি প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষক-শিক্ষার্থী মেয়ে কিংবা নারী, যাদের বড় অংশও এবার ভোট দেবেন। দেশের অর্থনীতিতে নারীদের সক্রিয় ও বিপুল অংশগ্রহণ রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজনীতিতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেতে পারছেন অনেক কম নারী। কিন্তু তাদের ভোট নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান তৈরি করে দেবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

দেশে জাতীয় ও স্থানীয় বেশ কয়েকটি নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ ও ভোট দেয়ার প্রবণতা নিয়ে ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট পার্সপেকটিভস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০০৩ ও ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নারীদের ভোট প্রদানের সম্ভাব্যতা পুরুষের তুলনায় যথাক্রমে ১ দশমিক ৪ এবং শূন্য দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি ছিল। এছাড়া ২০০৮ ও ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনেও পুরুষের তুলনায় নারীদের ভোটদানের সম্ভাব্যতা ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ২ এবং ১ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

চারটি নির্বাচনে ভোট প্রদানের তুলনামূলক তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে গ্রামীণ নারীদের ভোট দেয়ার প্রবণতা পুরুষের চেয়ে বেশি। জাতীয় ও স্থানীয় উভয় নির্বাচনেই নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি সংখ্যায় ভোট দিতে যান। পঞ্চম, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী ভোটারদের ভোটদান ফলাফলে ব্যবধান তৈরি করেছিল।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দেশে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ৭৪৩। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ কোটি ৩০ লাখ ৪০ হাজার ৭৭৫ এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার ৯৮৬। এ নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ছিল ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য ও তখনকার বিভিন্ন গণমাধ্যম ও গবেষণা উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৯৯১ সালের ওই নির্বাচনে নারী ভোটারদের প্রায় ৫৭ শতাংশ বিএনপিকে বেছে নেন। নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল দলটি।

১৯৯৬ সালের ১২ জুন দেশে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৪২২। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার এবং নারী ভোটার ছিল প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার। নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ছিল প্রায় ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

১৯৯৬ সালের ওই নির্বাচনে প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। এ নির্বাচনে প্রায় ৩৫ শতাংশ নারী বিএনপিকে ভোট দেয় বলে নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর দেশে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে নিবন্ধিত মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিল প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ ৩০ হাজার ৪১৪ জন এবং নারী ভোটার ছিল প্রায় ৩ কোটি ৬২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ জন। নির্বাচনে মোট ভোট পড়ার হার ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ। এ নির্বাচনে নারী ভোটাররা বিএনপিকে বিপুলভাবে সমর্থন দেন। ওই নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভোটের ব্যবধান ছিল বেশ কম। বিএনপি পেয়েছিল ৪১ শতাংশ ভোট আর আওয়ামী লীগ পায় ৪০ শতাংশের সামান্য বেশি। কিন্তু নারী ভোটের হিসাব ছিল অন্য রকম। ওই নির্বাচনে প্রায় ৫৭ শতাংশ নারী বিএনপিকে ভোট দেন। অর্থাৎ পুরুষ ভোটে ২০০১-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এগিয়ে থাকলেও নারী ভোটারদের ভোট মূলত বিএনপিকে বিজয়ী করেছিল।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর‘ভোট নিয়ে অপতথ্যের বন্যা ভারত থেকে’। খবরে বলা হয়, দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারি। তবে এই ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁরা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের প্রভাবিত করতে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ব্যাপকভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। সরকার পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে রয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে স্পর্শকাতর বিভিন্ন ছবি তৈরি করা হচ্ছে এবং অনলাইনে জনমত প্রভাবিত করার জন্য এসব ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত।

এমন অপতথ্য ছড়ানো বন্ধে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্কের সাহায্য চেয়ে বলেছেন, নির্বাচনকে ঘিরে অপতথ্যের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে যেমন অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তেমনি বিদেশি গণমাধ্যম ব্যবহার করেও ছড়ানো হচ্ছে অপতথ্য।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০% সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এর মধ্যে হিন্দুর সংখ্যাই বেশি। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, যেসব অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, এর কেন্দ্রে রয়েছে সংখ্যালঘু নির্যাতন। এসব অপতথ্য ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব পোস্টের সঙ্গে ‘হিন্দু জেনোসাইডের’ মতো হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের সংখ্যালঘু নির্যাতনের ৬৪৫টি ঘটনা তাদের নজরে এসেছে। তবে এর মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘাত ছিল ১২ শতাংশ। বাকিগুলোর সঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানি নেই।

বাংলাদেশে অপতথ্য ছড়ানো নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজ হেট’। তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এক্সে (সাবেক টুইটার) ১ লাখ ৭০ হাজার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়িয়ে ৭ লাখ পোস্ট করা হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এসব পোস্ট করা হয়। এসব পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে ‘হিন্দু গণহত্যা’ চলছে।

দেশ রূপান্তর

‘ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে কেউ যেন বিভ্রান্ত করতে না পারে’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশবরেণ্য অনেক আলেম-ওলামা সোচ্চার কণ্ঠে বলেছেন, কেউ কেউ দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বিশ্বাসী মুসলমানদের বিভ্রান্ত করারও অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সুতরাং সব বিশ্বাসীর প্রতি আহ্বান কেউ যেন বিশ্বাসী মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে না পারে, সে ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ গতকাল সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে তার এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী। পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ থাকবেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের? এটি কোনো জিজ্ঞাসা ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২ং৪ি সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধেও কে কোন ধর্মের? কার কি ধর্মীয় পরিচয়? এটি কোনো জিজ্ঞাসা ছিল না। আমরা মনে করি, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রীতি অনুযায়ী যার যার ধর্ম পালন করবেন। এটি একটি আধুনিক সভ্যসমাজের রীতি। সব নাগরিকের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ধর্ম যার যার। নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিককামী জনগণ তাদের স্বাধীনতা হরণকারী স্বৈরাচার ধর্মীয় চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কোনোটিকেই পছন্দ করে না। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সংস্কৃতি বজায় রেখেই যাতে আমরা সবাই মিলেমিশে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পারি। এ লক্ষ্যেই স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তা। দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই বাংলাদেশ আমাদের সবার, আমরা সবাই বাংলাদেশি।’

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের উচিত শহীদদের আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ গড়া। যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের রক্ত কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে উপনীত বাংলাদেশ। দেশের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট চক্র জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল। কেড়ে নিয়েছিল জনগণের সব গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক অধিকার। অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার এক মাহেন্দ্রক্ষণ আমাদের সামনে উপস্থিত। ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাচ্ছে গণতন্ত্রকামী জনগণের বহুল আকাক্সিক্ষত জাতীয় নির্বাচন।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর‘নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ইসি’। খবরে বলা হয়, গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার বিমানবাহিনীর ড্রোনের মাধ্যমে ভোটের পরিস্থিতি লাইভ পর্যবেক্ষণ করবে সরকার।

ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম ইতোমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৃথক পৃথক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিগুলোতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাহিনী, সংস্থা ও বিভাগ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনকালীন যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা নির্ণয়, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি অত্যন্ত সহায়ক হবে।

এ অবস্থায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পাদনের স্বার্থে বিমানবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবি কর্তৃক ড্রোন মোতায়েন করে ড্রোনের লাইভ ফিড নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিমানবাহিনীর ড্রোনের লাইভ ফিড নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও প্রদান করতে হবে বলে বিমানবাহিনীর কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে আজ সকাল সাড়ে ৭টায় নির্বাচনি প্রচার নিষিদ্ধ হচ্ছে। গতকাল দিনভর শেষ মুহূর্তের প্রচারে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনের সময় সংস্কারকাজে টেলিযোগাযোগ ‘বিঘ্নিত’ করা যাবে না:

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সংস্কারকাজে টেলিযোগাযোগ বিঘ্নিত না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব ইতোমধ্যে সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবকে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে টেলিযোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সমিশন সংযোগ যেন বিচ্ছিন্ন না হয়, সে লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন হাইওয়ে/রাস্তার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বাংলাদেশ সময়: ১০:২৪:১০   ৩৭ বার পঠিত