ভোটে নিরাপত্তা উদ্বেগে ৫০ শতাংশ সংখ্যালঘু

প্রথম পাতা » জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ » ভোটে নিরাপত্তা উদ্বেগে ৫০ শতাংশ সংখ্যালঘু
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



ভোটে নিরাপত্তা উদ্বেগে ৫০ শতাংশ সংখ্যালঘু

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তা উদ্বেগে ভুগছেন ৫০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু। ২৫ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোটগ্রহণকে অনিরাপদ বা অত্যন্ত অনিরাপদ মনে করছেন। গতকাল ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘অঙ্গীকার থেকে অনুশীলন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা বাংলাদেশের নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নির্বাচনী অংশগ্রহণের পেছনে বিদ্যমান বাধাগুলো চিহ্নিত করতে একটি জরিপ করে সিজিএস। অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়।

সিজিএসসের জরিপে বলা হয়, সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে কেবল ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ নিজেদের সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করছেন। বিপরীতে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ নিরাপত্তা উদ্বেগ জানিয়েছেন। এবং ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটগ্রহণকে অনিরাপদ বা অত্যন্ত অনিরাপদ মনে করছেন। সিজিএস জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৫০৫ জন সংখ্যালঘু এই জরিপে অংশ নিয়েছেন। এতে ভোটদানের আচরণ, রাজনৈতিক সচেতনতা, নিরাপত্তাবোধ এবং প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হয়। জরিপ অনুযায়ী, ৫৭ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, ভোটে অনিয়ম হলে তারা ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জানাবেন। ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ অভিযোগ করবেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এবং ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ নিরাপত্তা বাহিনীকে অবহিত করবেন। তবে ২০ দশমিক ৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। ভোটে অনিয়মের প্রতিবাদ জানাবেন ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার। ১২ দশমিক ৫ শতাংশ গণমাধ্যমকে জানাবেন এবং ১১ দশমিক ২ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক হয়রানি বা হুমকির ঘটনায় অভিযোগ জানানোর প্রবণতাও কম বলে উঠে এসেছে জরিপে। বলা হয়, ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি যেখানে অভিযোগ করার প্রয়োজন হয়েছে। তবে যারা হুমকি বা সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২২ শতাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন এবং অভিযোগ করেননি। অভিযোগ জানানো হলেও তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সামাজিক পরিসরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। জরিপে দেখা যায়, কেবল ১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার নির্বাচন কমিশনে এবং ১ দশমিক ৫ শতাংশ থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ না জানানোর পেছনে ভবিষ্যতে আরও বিপদের আশঙ্কাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা। এ বিষয়ে ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ মনে করেন, অভিযোগ করলে তারা আরও ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। আইনি ব্যবস্থার ওপর আস্থার অভাবের কথা জানিয়েছেন ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার। রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার পর অভিযোগ না করার কারণ হিসেবে ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেছেন। এ ছাড়া ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ পরিচয় প্রকাশ হয়ে সামাজিক অপমান বা কলঙ্কের আশঙ্কা করেন। ২৯ দশমিক ৭ শতাংশের অভিযোগ, এমন পরিস্থিতিতে পরিবার, সমাজ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যায় না। এ ছাড়া ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার আইনি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ২০ দশমিক ২ শতাংশ মনে করেন, প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যাবে না। যারা নির্বাচনী অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেও কোনো পদক্ষেপ নেননি, তাদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের শারীরিক কিংবা মানসিক ক্ষতির আশঙ্কাই তাদের নীরব থাকার প্রধান কারণ। একইসঙ্গে ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ পুলিশি হয়রানি বা আইনি জটিলতার ভয়ের কথা জানিয়েছেন। অনেকে ব্যক্তিগত শান্তি বজায় রাখতে নিশ্চুপ থাকার কথাও বলেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:১৫:২০   ৩৫ বার পঠিত  




জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬’র আরও খবর


বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের ভোট ৯ এপ্রিল
প্রতিমন্ত্রী হলেন রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম
প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী আসাদুজ্জামান, পেলেন যে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়
তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসন শূন্য ঘোষণা
জাল ভোট, বুথ দখলসহ নির্বাচনে যেসব অনিয়ম পেয়েছে টিআইবি
ঢাকায় আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী
শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট
শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা আসছেন ব্রিটিশ মন্ত্রী সীমা মালহোত্রা
শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা আসছে তুরস্ক সরকারের ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল
শপথ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে আসছেন দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ