চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু, ক্যাম্পের সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু, ক্যাম্পের সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার
বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬



চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু, ক্যাম্পের সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনাবাহিনীর অভিযানে আটকের পর পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৫২)’র মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেনা হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে ওই ক্যাম্পের কমান্ডারসহ সব সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। একইসঙ্গে সংস্থাটির তরফে বলা হয়েছে, এই ঘটনার কারণ উদঘাটনে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এবং তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল জীবননগর পৌর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত শামসুজ্জামান ডাবলুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে কাছাকাছি একটি কক্ষে নেয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র সভাপতি, বিজিএমইএ’র সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার সকালে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমীনের উপস্থিতিতে জীবননগর থানার পুলিশ শামসুজ্জামান ডাবলুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়।

এদিন বেলা ১১টার দিকে আবারো ঘটনাস্থলে আসেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী শরীফুজ্জামান ডাবলু। তাদের উপস্থিতিতে নেতাকর্মীরা কিছুটা শান্ত হন। এরপর জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে দুপুর ২টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নেয়া হয়।

নিহতের স্ত্রী জেসমিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কোনো অপরাধ না করেও তাকে এভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। আমার তিনটি নিষ্পাপ সন্তানকে এতিম করা হলো। যদি অপরাধী হতো, তাহলে আইনের মাধ্যমে বিচার হতো। কেন তাকে হত্যা করা হলো- এর সঠিক বিচার চাই। শামসুজ্জামান ডাবলুর কন্যাও বাবার মৃত্যুর বিচার দাবি করেছেন। তিনি  বলেন, আমার বাবার কী অপরাধ ছিল? কেন আমার বাবাকে মেরে ফেলা হলো- আমি এর বিচার চাই।  এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আমরা সেনাবাহিনীর অ্যাক্টিং জিওসি ব্রিগেডিয়ার ওসমানীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ তদন্ত ও বিচার হবে। আমরা আইনগত সব পথেই এই ঘটনার বিচার চাই। চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে। চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এই মৃত্যুর ঘটনা যদি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউই ছাড় পাবে না। তবে এর জন্য প্রথমে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত জরুরি। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এদিকে এ ঘটনাকে ঘিরে জীবননগর উপজেলায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন।

বিএনপি নেতার মৃত্যু নিয়ে যা বললো আইএসপিআরচুয়াডাঙ্গায় যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক বিএনপি নেতার মৃত্যু নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) আনুমানিক রাত ১১টায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনী কর্তৃক একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ফার্মেসি দোকান থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলুকে (৫০) আটক করা হয়। পরবর্তীতে, আটক ব্যক্তির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল ওই ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে ১ টি ৯ মিমি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। অভিযান শেষে আটক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরবর্তীতে আনুমানিক রাত ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও বলা হয়, এই ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতিমধ্যে উক্ত ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যদেরকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার এবং সঠিক কারণ উদঘাটনের উদ্দেশ্যে একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১:৫৮:৫২   ৬৫ বার পঠিত  




প্রধান সংবাদ’র আরও খবর


বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক শাস্তিযোগ্য অপরাধ: ন্যায়বিচার পরিপন্থি
জনপ্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান
বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি আটক, বিএনপিপন্থীদের প্রতিবাদ
ডিজিএফআই-এর নতুন মহাপরিচালক কায়ছার রশীদ চৌধুরী
বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিন দেওয়ায় আইনজীবীদের আদালত বর্জন
লাগেজে মদের বোতল ইস্যুতে মেহজাবীনের আইনি পদক্ষেপ
পিলখানা হত্যা মামলায় প্রথমবার আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা
১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের ভোট ৯ এপ্রিল
আরও ১২০২টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ