
মোঃ আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক তিনটি মামলায় এক নারীসহ চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রোববার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান আলী এ রায় দেন। দণ্ডিতদের মধ্যে চেকে ডিজঅনারের দুটি মামলায় ২ জন এবং একটি মাদক মামলায় ২ জন রয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, চেকে ডিজঅনারের পৃথক দুটি মামলায় দুই আসামিকে এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার পুটিমারী গ্রামের মো. ইউনুচ আলীর স্ত্রী মোছা. বেলুহার খাতুনকে (৫৮) এক বছরের কারাদণ্ড ও ৩৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আসামি বেলুহার খাতুন ‘সিও এনজিও’ মুন্সিগঞ্জ শাখা হতে ঋণ গ্রহণ করার পর বকেয়া সার্ভিস চার্জসহ মোট ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য ২০২৩ সালের ২৬ জুন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, খাসকররা বাজার শাখার একটি চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে ব্যাংকে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। আইনি নোটিশের জবাব না দেয়ায় মামলা দায়ের করা হলে আদালত এই রায় প্রদান করেন। অপরদিকে, কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার পাইকপাড়া (সুতাইল) গ্রামের মিয়া আইয়ুব আলীর ছেলে মিয়া রবিউল ইসলামকে (৪৯) এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৩৬ হাজার ৫৬০ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। এই আসামি ‘সিও এনজিও’ আলমডাঙ্গা শাখা হতে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের ৩৬ হাজার ৫৬০ টাকার একটি চেক প্রদান করেছিলেন, যা ২০২৩ সালের ১২ জুলাই ব্যাংকে ‘অপ্রাপ্ত তহবিল’ জনিত কারণে ডিজঅনার হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি রবিউল ইসলাম পলাতক ছিলেন। এদিকে, অপরদিকে দর্শনা থানার একটি মাদক মামলায় আদালত ৩ আসামিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন দর্শনা থানার কামারপাড়া গ্রামের মৃত ফকির চাঁদ মণ্ডলের ছেলে মো. নাসির উদ্দীন (৫০), আতিয়ার রহমানের ছেলে মো. রোকন (২৮) এবং মো. কিতাব আলীর ছেলে মো. সামাদ (৩৭)। আদালত মামলার ১নং আসামি নাসির উদ্দীন ও ২নং আসামি রোকনকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড। অনাদায়ে আরও ৬০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া ৩নং আসামি মো. সামাদকে ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড। অনাদায়ে আরও ৬০ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। এই মামলার আসামিরাও বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। মামলার পটভূমি থেকে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি চৌকস টহল দল হাবিলদার মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে দর্শনা থানার কামারপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি অত্যন্ত চতুরতার সাথে বিদেশি মদের বোতলে লেবেল লাগিয়ে সাধারণ পানি হিসেবে পাচারের চেষ্টাকালে ৫০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দর্শনা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ বিজ্ঞ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:১৪:৩০ ১০ বার পঠিত