![]()
সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। যা নিয়ে বেশ কয়েকদিন যাবৎ চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বলা হচ্ছিল রাশিয়ার চাওয়া পাওয়া পূরণ করতেই ওই পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে ওয়াশিংটন। যদিও মস্কো বলেছে এ বিষয়ে তারা অবগত নয়। এদিকে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ দফা পরিকল্পনা প্রস্তাবে পুরোপুরি সম্মত না হলেও দেশটির সঙ্গে কাজ করের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এমন নানামুখী আলোচনার মধ্যে নতুন বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাই কিয়েভের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তাব নয়।
এ খবর দিয়ে বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ দফা শান্তি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের মিত্রদের উদ্বেগের পর এ কথা জানালেন ট্রাম্প। শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে জি-২০ সম্মেলনে ইউরোপ, কানাডা ও জাপানের নেতারা জানান, প্রস্তাবে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা থাকলেও এতে সীমান্ত পরিবর্তন এবং ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতার ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে আরও কাজ প্রয়োজন।
রোববার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে ইউক্রেন এখন ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় অতিক্রম করছে। ওয়াশিংটনের প্রস্তাবটিকে অনেকে রাশিয়ার আনুকূল্যে বিবেচনা করছেন।
এদিকে ইউক্রেনকে এই প্রস্তাব মেনে নিতে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও প্রস্তাবটিকে সম্ভাব্য সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হোয়াইট হাউসে শনিবার ট্রাম্পকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় এটি কি তার চূড়ান্ত প্রস্তাব? তখন তিনি বলেন- না, এটা আমার চূড়ান্ত প্রস্তাব নয়। যেভাবেই হোক যুদ্ধ থামাতে হবে, আমরা সে দিকেই কাজ করছি। জেনেভার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। বৃটেনের হয়ে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল।
জি-২০ সম্মেলনে এক যৌথ বিবৃতিতে কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, বৃটেনসহ ইউরোপীয় দেশের নেতারা বলেন- সীমান্ত বলপ্রয়োগে পরিবর্তন করা যাবে না। ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রস্তাবিত সীমাবদ্ধতা ভবিষ্যতে দেশটিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারও সামরিক সীমা-নির্ধারণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।
প্রস্তাবের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো- পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কের বর্তমানে ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার। দোনেৎস্ক, লুহানস্ক ও ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়ার ওপর রাশিয়ার দখল স্বীকৃতি। খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে বর্তমান যুদ্ধরেখা বরাবর সীমান্ত স্থিরকরণ। ইউক্রেনের সেনা সংখ্যা সর্বোচ্চ ৬ লাখে সীমিত রাখা। ইউরোপীয় যুদ্ধবিমান পোল্যান্ডে অবস্থান করবে। ইউক্রেনকে বিশ্বস্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জি-৭ এ ফিরিয়ে এনে পুনরায় জি-৮ করা। প্রতিবেশী দেশগুলোতে আক্রমণ করতে পারবে না রাশিয়া।
জেলেনস্কি শুক্রবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন, দেশকে হয় সম্মান হারানোর নয়তো মূল মিত্র হারানোর মতো কঠিন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে আলোচনা চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন। শনিবার তিনি জানান, তার প্রধান সহকারী আন্দ্রি ইয়ারমাক শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
বাংলাদেশ সময়: ২১:৪৩:৪৭ ১০৪ বার পঠিত