ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেনের বিশেষত্ব ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেনের বিশেষত্ব ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬



ভারত অবকাঠামো খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে নিজেদের তৈরি প্রথম হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন চালু করতে যাচ্ছে। মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডোরের জন্য ভারতের মাটিতেই এই ট্রেনের নকশা ও নির্মাণকাজ চলছে। সম্পূর্ণ বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারতীয় প্রকৌশলীরা দেশের অনন্য আবহাওয়া ও পরিচালনা উপযোগী করে ট্রেনটি তৈরি করছেন। বর্তমানে বেঙ্গালুরুর বিইএমএল কারখানায় এটি তৈরির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ট্রেনটি সর্বোচ্চ ২৮০ কিলোমিটার পরীক্ষামূলক গতি অর্জনের জন্য নকশা করা হলেও এটি বাণিজ্যিকভাবে ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার গতিতে চলবে।

ট্রেনটি ২০২ মিটার দীর্ঘ এবং এতে মোট আটটি কোচ থাকবে, যার মধ্যে চারটি মোটর কার এবং চারটি ট্রেইলার কার। ট্রেনটিতে মোট ৫৫৭ জন যাত্রী বসতে পারবেন, যার মধ্যে প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য দুটি আসন সংরক্ষিত থাকবে। ট্রেনে মোট সাতটি স্ট্যান্ডার্ড-ক্লাস কোচ এবং একটি এক্সিকিউটিভ-ক্লাস কোচ থাকবে। ট্রেনের উভয় প্রান্তে ড্রাইভারদের ক্যাবিন থাকবে, যা অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমন্বয়ের জন্য একটি বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অন-বোর্ড কন্ট্রোল সিস্টেমে সজ্জিত। প্রয়োজনে দুটি আট কোচের ট্রেন যুক্ত করে ১৬ কোচের একটি ট্রেনে রূপান্তর করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যাত্রীদের আরামের জন্য অভ্যন্তরীণ আসনগুলো প্রশস্ত এবং পা রাখার জন্য যথেষ্ট জায়গা রেখে তৈরি করা হয়েছে। আধুনিক এলইডি লাইটিং ও বড় জানালার পাশাপাশি এতে থাকছে বায়ো-ডিজেস্টার টয়লেট ব্যবস্থা। কোচের ভেতরে ওভারহেড র্যাক এবং ভারী লাগেজ রাখার জায়গা ছাড়াও ল্যাপটপ ও মোবাইল চার্জের জন্য আলাদা পাওয়ার আউটলেট থাকবে। এক কোচ থেকে অন্য কোচে যাতায়াতের জন্য থাকছে সিল করা গ্যাংওয়ে। যাত্রীদের তথ্য জানানোর জন্য থাকবে এলসিডি ডিসপ্লে, যেখানে ইংরেজি, হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষায় তথ্য প্রদর্শিত হবে। সেই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় ঘোষণা ব্যবস্থা ও উচ্চগতির ওয়াই-ফাই নির্ভর বিনোদন কেন্দ্র থাকবে। জরুরি পরিস্থিতিতে সরাসরি ট্রেনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বসানো হয়েছে ইমার্জেন্সি টক-ব্যাক ইউনিট। এছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সুবিধার্থে ব্রেইল লিপির সাইনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির অংশ হিসেবে সারা বছর সঠিক তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে প্রতিটি কোচে ডুয়েল-ইউনিট এইচভিএসি এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রেনের ভেতরের শব্দ কমাতে কার বডি ও ফ্লোরে সাউন্ড ইনসুলেশন ব্যবহার করা হয়েছে। ২৪৯ কিলোমিটার গতির এই ট্রেনটি ২৫ কেভি এসি ওভারহেড ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমে চলবে। শক্তি সাশ্রয়ে এতে স্মার্ট রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্রেক করার সময় বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে গ্রিডে ফেরত পাঠাবে। এছাড়া সুড়ঙ্গে চলাচলের সময় বায়ুর বাধা কমাতে এবং বিকট শব্দ (সনিক বুম) রোধ করতে অ্যারোডাইনামিক শেপের আধুনিক অ্যারোডাইনামিক নোজ ব্যবহার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ৯:৪০:০৬   ২৫ বার পঠিত   #  #  #  #  #  #




আন্তর্জাতিক’র আরও খবর


ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেনের বিশেষত্ব ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা
স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জেরে বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
আইসিএপিপি সম্মেলনে যোগ দিতে সিউলে বিএনপির প্রতিনিধিদল
হুথি সংঘাত ঘিরে কঠোর অবস্থানে সৌদি আরব
কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলন: বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও প্রত্যাশা
প্রথমবার নারী গভর্নর পেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ অঙ্গরাজ্য
ইউরোপের সাতটি উড়োজাহাজে বোমার হুমকি, নিরাপত্তা তল্লাশি
যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের লড়াই
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের জন্য ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর চাপ

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ