আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর ২০২৬ তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ৩১)। সম্মেলনে তুরস্ক আয়োজক হিসেবে এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্রিস বোয়েন সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় লবণাক্ততা, নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জলাবদ্ধতার মতো সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ। বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান ০.৫ শতাংশের কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের শিকার দেশটি।
বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু কূটনৈতিক প্রশ্ন নয়, অস্তিত্ব ও উন্নয়নের প্রশ্ন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সংগঠন ও তরুণদের যুক্ত করে অবস্থানপত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে অর্থ, পররাষ্ট্র, পানিসম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশনের সমন্বিত অবস্থান জরুরি। বাংলাদেশের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- পর্যাপ্ত, সহজলভ্য ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন।
- অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় অনুদানকে অগ্রাধিকার প্রদান।
- প্যারিস চুক্তির ৯.১ অনুচ্ছেদ ও সবুজ জলবায়ু তহবিলে সরাসরি প্রবেশাধিকার।
- জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি ও অভিবাসনকে অভিযোজন পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করা।
- স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর ঝুঁকিভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের দাবি।
- প্রযুক্তি ও সক্ষমতা হস্তান্তর।
বাংলাদেশের তৃতীয় জাতীয় জলবায়ু অঙ্গীকার (ঘউঈ ৩.০) অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল নাগাদ নির্গমন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পসুদের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়া, দেশীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিভিত্তিক প্রকল্প নির্বাচন, স্বাধীন নিরীক্ষা এবং ফলাফলভিত্তিক বাজেট প্রতিবেদন তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪৭:১১ ১৪ বার পঠিত #কপ৩১ #জলবায়ু অর্থায়ন #জলবায়ু কূটনীতি #জলবায়ু পরিবর্তন #তুরস্ক #পরিবেশ #বাংলাদেশ