রাজধানী ঢাকায় যাত্রীপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচলের নীতিমালা প্রকাশ করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এই নীতিমালা প্রকাশ করে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া ঢাকা শহরে কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে পারবে না।
- নিবন্ধনের জন্য কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ফরম ও ফিসহ কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।
- আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে এবং নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।
- প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়া হবে, যা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
- একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে অনধিক পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে।
- এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।
- বুয়েটনির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড, নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ও ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া নিবন্ধন দেওয়া হবে না।
- প্রতিটি ই-রিকশার ‘ইকোনমিক লাইফটাইম’ হবে নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর।
- ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক।
- জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস করিডর এবং প্রশাসন কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না।
- ই-রিকশা ফুটপাতে চলাচল করতে পারবে না এবং চালককে সব সময় সড়কের বাঁ লেন অনুসরণ করতে হবে।
- চালক ড্রাইভিং অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না এবং নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং বা লেন পরিবর্তন নিষিদ্ধ।
- ই-রিকশায় চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই বা চারজন যাত্রী পরিবহন করা যাবে।
- স্কুল, হাসপাতাল বা জনবহুল স্থানে ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।
- কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে রুট নির্ধারণ করে দেবে এবং জোনভিত্তিক রুট অনুসরণ করতে হবে।
- অনুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট বা গ্যারেজে ই-রিকশা চার্জ দিতে হবে এবং সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।
অবৈধ ই-রিকশা চলাচল বন্ধে মেট্রোপলিটন এলাকার ট্রাফিক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথ বা পৃথকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
বাংলাদেশ সময়: ১২:১১:২১ ১৬ বার পঠিত #ঢাকা #নীতিমালা #পরিবহন #ব্যাটারিচালিত রিকশা #লাইসেন্স #সিটি করপোরেশন