বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

শহর ও গ্রামের স্কুলশিক্ষার্থীদের মধ্যে এআই ব্যবহারে বড় বৈষম্য

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » শহর ও গ্রামের স্কুলশিক্ষার্থীদের মধ্যে এআই ব্যবহারে বড় বৈষম্য
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬



শহর ও গ্রামের স্কুলশিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, শহরের ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী এআই সম্পর্কে জানলেও গ্রামে এই হার মাত্র ৩০ শতাংশ। ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবধান আরও প্রকট; শহরের ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনায় এআই ব্যবহার করলেও গ্রামে এই হার মাত্র ৬ শতাংশ। অভিভাবক পর্যায়েও এই প্রযুক্তির পরিচিতি নিয়ে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া গ্রামীণ অভিভাবকদের ৯০ শতাংশই এআই সম্পর্কে অবগত নন।

শহরের শিশুরা পরিবারের সদস্যদের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দেখে অনেক কিছু শিখছে। তিনি নিজেও বিভিন্ন কাজে এআইয়ের সাহায্য নেন। তা দেখে তাঁর সন্তানরাও এআই ব্যবহার করে প্রশ্নের উত্তর ও সমস্যার সমাধান খুঁজতে আগ্রহী হচ্ছে।

বিবিএসের তথ্যমতে, শহরাঞ্চলে ৭৫.৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও গ্রামাঞ্চলে এই হার ৪৩.৬ শতাংশ। এছাড়া শহরাঞ্চলে ২০.৭ শতাংশ পরিবারের কম্পিউটার থাকলেও গ্রামাঞ্চলে এই হার মাত্র ৩.৮ শতাংশ। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত শেখার সহকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এর সুবিধা শুধু শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে শিক্ষায় বিদ্যমান বৈষম্য আরও বাড়তে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিক এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নিয়ে সতর্ক করে বলেন, নিজে চিন্তা না করে সব কাজ এআই দিয়ে করিয়ে নিলে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণ করার দক্ষতা দুর্বল হতে পারে। সরকার শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ১৭ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকার প্রকল্প এবং প্রাথমিক পর্যায়ে পিইডিপি-৫ কর্মসূচির আওতায় এআইভিত্তিক শিক্ষা সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১১:০০:৪৩   ৯ বার পঠিত   #  #  #  #  #  #