বিয়ের শর্ত ছাড়া কেবল ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করাকে আইনগতভাবে ‘যৌতুক’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বাতিল করে মো. রাসেল উদ্দিন নামে এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত। রোববার (১১ অক্টোবর) বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২(ঞ) ধারা অনুযায়ী, বিয়ের শর্ত বা বিবেচনা হিসেবে বর বা বরপক্ষের দ্বারা কোনো অর্থ বা সম্পত্তি দাবি করাকেই কেবল ‘যৌতুক’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালে মো. রাসেল উদ্দিন ও ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে ১ লাখ টাকা দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। হাইকোর্ট রায়ে দুটি প্রধান বিষয় চিহ্নিত করেছেন:
- যৌতুকের আইনি সংজ্ঞা: বাদী ও সাক্ষীরা জবানবন্দিতে জানিয়েছেন যে টাকাটি ব্যবসার উদ্দেশ্যে চাওয়া হয়েছিল। ব্যবসার প্রয়োজনে টাকা চাওয়া যৌতুকের সংজ্ঞার আওতাভুক্ত নয়।
- মেডিকেল সাক্ষ্যের বৈপরীত্য: বাদী জবানবন্দিতে ডান কাঁধে আঘাতের কথা বললেও মেডিকেল সনদে বাম কাঁধে আঘাতের উল্লেখ পাওয়া গেছে। এই বৈপরীত্য নির্যাতনের অভিযোগকে সন্দেহের মুখে ফেলেছে।
আদালত মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও সাজানো হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল করেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৪৬:২৯ ৯ বার পঠিত #আইনি রায় #আদালত সংবাদ #নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন #মো. রাসেল উদ্দিন #যৌতুক #হাইকোর্ট