সুপারস্টার থেকে সন্ন্যাসী: বিনোদ খান্নার অবিশ্বাস্য জীবন

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » সুপারস্টার থেকে সন্ন্যাসী: বিনোদ খান্নার অবিশ্বাস্য জীবন
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬



একসময় তাঁর চেহারা আর ব্যক্তিত্বের সামনে পর্দার অন্য তারকারাও ম্লান হয়ে যেতেন। খলনায়ক হিসেবে শুরু করে হয়ে উঠেছিলেন নায়ক, তারপর সত্তরের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় সুপারস্টার। ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’, ‘মুকাদ্দর কা সিকান্দার’, ‘কুরবানি’, ‘দ্য বার্নিং ট্রেন’—একের পর এক সফল সিনেমায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বিনোদ খান্না।

শুরুর দিকে ‘মস্তানা’, ‘সচ্চা ঝুঠা’, ‘আন মিলো সাজনা’, ‘পুরব অউর পশ্চিম’ ও ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’-এর মতো সিনেমায় নেতিবাচক বা পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন বিনোদ। কিন্তু তাঁর চেহারা, কণ্ঠস্বর ও পর্দার উপস্থিতি দ্রুত দর্শকের নজর কাড়ে। বিশেষ করে ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’-এ ডাকাত জব্বর চরিত্রটি বিনোদকে আলাদা করে পরিচিত করে। একই সময়ে গুলজারের ‘মেরে আপনে’ তাঁকে নায়কোচিত চরিত্রের দিকে এগিয়ে দেয়। ১৯৭৩ সালে ‘আচানক’-এ তাঁর অভিনয়ও ব্যাপক প্রশংসা পায়। অর্থাৎ যে অভিনেতা একসময় নায়কের বিপরীতে দাঁড়াতেন, তিনিই ধীরে ধীরে দর্শকের প্রিয় নায়ক হয়ে উঠলেন।

কিন্তু ঠিক যখন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময়, তখনই হঠাৎ সব ছেড়ে চলে গেলেন আধ্যাত্মিকতার পথে। ওশো রজনীশের শিষ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রমে কাটালেন প্রায় পাঁচ বছর। সেখানে তারকার পরিচয় ভুলে কাজ করেছেন মালি হিসেবে, থালাবাসন পরিষ্কার করেছেন। সেই সিদ্ধান্তে ভেঙে গিয়েছিল তাঁর প্রথম সংসারও।তবু সেখানেই গল্প শেষ নয়। ফিরে এসে আবার সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরি করেন বিনোদ। পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রীও হন। ২০১৭ সালে ৭০ বছর বয়সে মৃত্যুর পরও তাই তাঁর জীবন বলিউডের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী তারকাযাত্রার একটি হয়ে আছে। আজ তাঁর ৮০তম জন্মবার্ষিকীতে ফিরে দেখা যাক সেই অবিশ্বাস্য জীবন।

  • পেশোয়ার থেকে মুম্বাই: ১৯৪৬ সালের ৬ অক্টোবর অবিভক্ত ভারতের পেশোয়ারে জন্ম বিনোদ খান্নার। দেশভাগের পর পরিবার চলে আসে ভারতে। পরে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে কাটে তাঁর বেড়ে ওঠার সময়। পড়াশোনা করেন মুম্বাইয়ের সিডেনহাম কলেজে।
  • খলনায়ক থেকে নায়ক: সত্তরের দশকের মাঝামাঝি এসে বিনোদ খান্না শুধু জনপ্রিয় নন, বড় তারকা। ‘হেরা ফেরি’, ‘আমর আকবর অ্যান্টনি’, ‘পারভারিশ’, ‘মুকাদ্দর কা সিকান্দার’—একাধিক সিনেমায় অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি।
  • জনপ্রিয়তার শিখরে, হঠাৎ সব ছেড়ে দিলেন: ১৯৮২ সালে, ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থায়, তিনি সিনেমা ছেড়ে ওশোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের রজনীশপুরমে চলে যান। সেখানে তিনি কোনো তারকার মতো জীবন কাটাননি; বরং আশ্রমে বাগানের কাজ করতেন, থালাবাসন পরিষ্কার করতেন। ওশোর ব্যক্তিগত বাগানের মালি হিসেবেও কাজ করেছিলেন।
  • রাজনীতির মঞ্চে: ১৯৯৭ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৯৮ সালের লোকসভা নির্বাচনে পাঞ্জাবের গুরদাসপুর থেকে জয়ী হন। ২০০২ সালে বিনোদ ভারতের সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী হন। একই বছর তাঁকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩০:০৩   ১৬ বার পঠিত   #  #  #  #  #  #




প্রধান সংবাদ’র আরও খবর


সভায় এবি পার্টির নেতারা সভায় এবি পার্টির নেতারা সাইবার অপরাধ যেন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়
পাকিস্তানে বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট তীব্র, ঘাটতি ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে
সাক্ষ্য দিতে অনুপস্থিতি, প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সমন জারি
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি
বংশালে প্রিজনভ্যান থেকে মাদক ব্যবসায়ীকে নামিয়ে বোনের গাড়িতে তুলে দিলেন পুলিশ
আদালত থেকে আবারও কৌশলে পালালেন আসামি শরিফুল
ইরাক যুদ্ধের এক দশক পর ক্ষমা চাইলেন মার্কিন সেনা, নির্মিত হলো চলচ্চিত্র
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড ফ্যাসিবাদ আমলের চরম উদাহরণ: অ্যাটর্নি জেনারেল
দুর্গাপূজার ছুটি পুনর্নির্ধারণ ও ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘোষণা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্গাপূজার ছুটি ৫ থেকে ১৬ দিন

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ