বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

আউটসোর্সিং নীতিমালা সংশোধনে ২ লাখ কর্মীর বেকারত্বের শঙ্কা

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » আউটসোর্সিং নীতিমালা সংশোধনে ২ লাখ কর্মীর বেকারত্বের শঙ্কা
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬



সরকারি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। খাত-সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, গত ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের জারি করা সংশোধনীর মাধ্যমে নতুন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আউটসোর্সিং করার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা-২০২৫’-এর সংশোধনী বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।

উদ্যোক্তাদের দাবি, নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে দেশের প্রায় ১ হাজার ৮০০ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান ব্যবসা হারানোর পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে। সম্প্রতি অর্থ বিভাগে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে এ দাবি জানানো হয়। দেশের বিভিন্ন আউটসোর্সিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিরা এতে স্বাক্ষর করেন। আবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল সরবরাহ করে আসছেন উদ্যোক্তারা। এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬, সরকারি ক্রয় আইন-২০০৬, সরকারি ক্রয় বিধিমালা এবং আউটসোর্সিং নীতিমালা অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অথচ সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা পরামর্শ না করেই সরকার এসংক্রান্ত নীতিমালা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনকারীরা আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত লাইসেন্স নবায়ন ফি, নিরাপত্তা জামানত, আয়কর, ভ্যাটসহ বিভিন্ন ধরনের সরকারি রাজস্ব দিয়ে থাকে। একই সঙ্গে তাদের মাধ্যমে কর্মরত বিপুলসংখ্যক মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ফলে এ খাতে হঠাৎ সংকোচন হলে কর্মসংস্থান ও সরকারি রাজস্ব—উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে।

চিঠিতে দাবি করা হয়, সংশোধনীটি সংশ্লিষ্ট আইন ও বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি করবে। এমনকি সরকারও এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে। আবেদনকারীরা সংশোধনীটি পুনর্বিবেচনা করে রদ, রহিত ও বাতিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর নতুন করে আউটসোর্সিং সেবা নিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা গ্রহণের সুযোগ বন্ধ করে একটি নির্দেশনা জারি করে সরকারের অর্থ বিভাগ। এতে বলা হয়, এখন থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠান সরাসরি ব্যক্তির কাছ থেকে সেবা নিতে পারবে অথবা অর্থ বিভাগ অনুমোদিত বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা নিতে হবে। অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবাগ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫’-এর কয়েকটি ধারা সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালায় আউটসোর্সিং কর্মীর পারিশ্রমিক তার নিজস্ব ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ছাড়া কর্মী পরিবর্তন করতে পারবে না। এ ছাড়া চুক্তিতে নির্ধারিত কাজের বাইরে কর্মীকে অন্য কাজে নিয়োগ করা যাবে না। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হলে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

বাংলাদেশ সময়: ৯:৫৮:৩৪   ৬ বার পঠিত   #  #  #  #  #  #