
কাযর্কর একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহকর্মীদের ‘নিবন্ধন’ বাধ্যতামূলক করার প্রশ্নে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। ১৯৬১ সালের গৃহকর্মী নিবন্ধন অধ্যাদেশ অনুসারে গৃহকর্মীদের জন্য ‘বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। একই সঙ্গে রিটে উল্লেখিত সুপারিশ অনুযায়ী ‘বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ বাস্তবায়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
এক রিট আবেদনে প্রথামিক শুনানির পর বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই রুল দেন।
আইনসচিব, শ্রম এবং কর্মসংস্থার মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা; যিনি গত জানুয়ারিতে এই রিট করেছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী গণমাধ্যমকে বলেন, “গত বছর ৫ ডিসেম্বরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছিল। সে সময় এই হত্যাকাণ্ড বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।
হত্যাকারী ছিলেন ওই বাসারই গৃহকর্মী। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর যুক্ত করে বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। সেই নোটিশে ১৯৬১ সালের গৃহকর্মী নিবন্ধন অধ্যাদেশ অনুসারে গৃহকর্মীদের জন্য ‘বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরে ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করি।
গতকাল সেই রিটে শুনানির পর রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।”
১৯৬১ সালের গৃহকর্মী নিবন্ধন অধ্যাদেশে রাজধানী ঢাকার নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। এলাকাগুলো হচ্ছে- ঢাকা কতোয়ালী, সূত্রাপুর, লালবাগ, রমনা ও তেজগাঁও। বিদ্যমান অধ্যাদেশ অনুসারে এসব এলাকার বাসা বাড়িতে কাজ করা গৃহকর্মীদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তেবে অধ্যাদেশে এ-ও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকার গেজেট জারির মাধ্যমে অন্য এলাকা অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
রিটকারী আইনজীবী বলেন, “নির্দিষ্ট এলাকা হিসেবে অধ্যাদেশে যে কয়টা এলাকার উল্লেখ আছে, সেইসব এলাকাতেও অধ্যাদেশের বাস্তবায়ন নেই। যেহেতু রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গৃহকর্মীদের দ্বারা হত্যাকাণ্ডের মত নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, তাই রিট আবেদনে এলাকার পরিধি বাড়ানোসহ সুপারিশ তুলে ধরে এই বিষয়েও রুল চেয়েছিলাম। আদালত এ বিষয়েও রুল দিয়েছেন।”
১৯৬১ সালের গৃহকর্মী নিবন্ধন অধ্যাদেশের কার্যকর প্রয়োগ বা বাস্তবায়নের জন্য গেজেট জারির মাধ্যমে ‘নির্দিষ্ট এলাকা’র পরিধি বাড়াতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানান আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা।
বাংলাদেশ সময়: ০:৫৩:৪৫ ৬ বার পঠিত