জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন স্থগিত চেয়ে রিট

প্রথম পাতা » জাতীয় » জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন স্থগিত চেয়ে রিট
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬



---

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের যে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা স্থগিত চেয়ে রিট করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী রবিবার (৫ এপ্রিল) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট করেন।

গত বছর ৯ নভেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। অধ্যাদেশের ৬ ধারায় কমিশনের চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের নিয়োগ, মেয়াদ, পদত্যাগ, ইত্যাদি বিষয়ে বলা আছে।

অধ্যাদেশের ৭ ধারায় চেয়ারপারসন-কমিশনারদের শূন্য পদে নিয়োগের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রদানের বাছাই কমিটি গঠন বিষয়ে বলা আছে। অধ্যাদেশের ৬ (১) ধারার অধীন কমিশনের চেয়ারপারসন ও চারজন কমিশনার নিয়োগ দিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার।

অধ্যাদেশের ওই দুটি ধারা এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত ৫ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করেন আইনজীবী আশেক-ই-রসুল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমে ২০০৭ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ হয়, যা ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন হিসেবে পাশ হয়।

অধ্যাদেশে চেয়ারপারসন-কমিশনারদের বয়সসীমা ছিল সর্বোচ্চ ৭০ বছর। ২০০৯ সালের আইনে ৭২ বছর করা হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে চেয়ারপারসন-কমিশনারদের বয়সসীমার বিষয়টি উল্লেখ নেই। ফলে পছন্দসই ব্যক্তিকে এসব পদে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের ৬ ও ৭ ধারা সংবিধানের কয়েকটি (৭, ১১, ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ) অনুচ্ছেদের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে রিটে। প্রাথমিক শুনানির পর আদালত রুল জারি করলে তা বিচারাধীন অবস্থায় অধ্যাদেশের ৬(১) ধারার অধীন ৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপন (চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত) স্থগিত চাওয়া হয়েছে। রিটের ওপর চলতি সপ্তাহে শুনানি হতে পারে বলে জানান রিট আবেদনকারী এই আইনজীবী।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করে। অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ সংসদে হুবহু বিল আকারে তোলা এবং ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে বিল তোলার জন্য সুপারিশ করে।

অন্য ২০টির মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়। চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই সংসদে বিল আনয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সময়: ০:০৬:৪৪   ১০৯ বার পঠিত  




জাতীয়’র আরও খবর


পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করলে বিদ্যমান আইনে কী শাস্তি
পে-স্কেল নিয়ে নতুন জল্পনা, গেজেট নিয়ে যা জানা গেলো
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুদকের অনুসন্ধান চান সালাহউদ্দিন
ইসলামী ব্যাংক নির্বাচনের আগে একটি দলকে ১১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বড় বাজেট বড় ঘাটতি,ঋণ নির্ভরতা বাড়ছে
ধর্ষণ মামলার দ্রুত তদন্তে বাধা মেডিকেল রিপোর্ট
নারী-শিশু নির্যাতন মামলা সাজার হার মাত্র তিন শতাংশ
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুজব, অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে
ধর্ষণ-হত্যায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমেছে হাইকোর্টে বিচার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি ৯ বছরেও

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ