
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বিএনপির প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন।
পাড়া–মহল্লায় লিফলেট বিতরণ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা—সব জায়গাতেই দেখা গেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতাকর্মীদের ব্যস্ত পদচারণা। তারা ভোটারদের কাছে গিয়ে বলছেন, ‘স্বাধীনতার আস্থা ধরে রাখতে এবার ধানের শীষকে সমর্থন দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, ছাতক ও দোয়ারাবাজারের ২২টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় বইছে।
গ্রামীণ চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লার আড্ডা—সর্বত্রই চলেছে উত্তপ্ত আলোচনা। অলি–আউলিয়া ও মাজারভিত্তিক অনুসারীদের বড় একটি অংশও জামায়াতের প্রার্থী আবু তাহির মোহাম্মদ আব্দুল সালাম আল–মাদানির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপি প্রার্থী মিলনের পক্ষে প্রচারণায় নামছেন। সিলেটের খ্যাতিমান পীর ফুলতলী অনুসারী, জমিয়ত ও অন্যান্য ধর্মভিত্তিক গ্রুপের নেতাকর্মীরাও মিলনকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাদির পরিষ্কার জানিয়েছেন, তিনি জামায়াতকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ দেখছেন না। ফলে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়েছে।
উপজেলার ইসলামপুর ইউপির বিএনপি নেতা আব্দুল কদ্দুছ জানান, আওয়ামী লীগের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হেকিম, রুগু বাবু, উপজাতি নেতা মিলন সিংহ, রগু সিংহ ও রতনসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নেমেছেন।
বিএনপি প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, আমাদের নেতা বলেছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা বলব—সবার আগে ছাতক–দোয়ারাবাজার। ঐক্যবদ্ধ থাকলে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও হয়রানি–মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, জাউয়া বাজার, গোবিন্দগঞ্জ, ছাতক–দোয়ারাবাজারকে আধুনিক মডেল হিসেবে গড়ে তুলতেই আমাদের এই ঐক্য হবে শক্ত ভিত্তি।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৯:০৭ ৭১ বার পঠিত