![]()
নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ২৫টি রাজনৈতিক দলের ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বেশিরভাগ আসনে দ্বিমুখী ও ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে ১০ থেকে ১৫টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট দেওয়ার সক্ষমতাও নেই। নির্বাচনে নামেমাত্র প্রার্থী হলেও তাদের নেই কর্মী-সমর্থক। এ ধরনের প্রার্থীর বেশির ভাগেরই জামানত হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ভোটের দিন সকালে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র থেকে প্রিসাইডিং অফিসার পোলিং এজেন্ট ফরম সরবরাহ করবেন প্রার্থীদের নির্বাচনি এজেন্টের কাছে। সে অনুযায়ী তা পোলিং এজেন্টের নাম লিখে প্রিসাইডিং অফিসারের হাতে জমা দেবেন। পোলিং এজেন্টদের মূল কাজ হচ্ছে ভোটারদের শনাক্ত করা।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী একজন প্রার্থী প্রত্যেক ভোট কক্ষে একজন করে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারবেন। কোনো প্রার্থী যদি দিতে না পারেন সেটা তাদের বিষয়।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই): আসনটিতে সাতজন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন, জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাত হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) একেএম আবু ইউসুফ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ছাড়া অন্য দলের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সব কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেওয়ার মতো সক্ষমতা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এসব প্রার্থীর জামানত হারানোরও শঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি): আসটিতে বিএনপির সরওয়ার আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নুরুল আমিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ প্রার্থী হিসাবে রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হবে এই তিনজনের মধ্যে। জনতার দলের মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলী, গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান, ইসলামী আন্দোলনের জুলফিকার আলী মান্নান, স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আলী থাকলেও তাদের পক্ষে প্রতিটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেওয়া সম্ভব হবে না।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ): আসনটিতে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা, জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আলাউদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা। এখানে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্য প্রার্থীদের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেওয়ার সক্ষমতা নেই।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড): আসনটিতে ৯ জন প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপির মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. সিরাজুদ্দৌলা, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. দিদারুল মাওলা, গণঅধিকার পরিষদের এটিএম পারভেজ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. মছিউদদৌলা, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ ও গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম। আসনটিতে বিএনপি-জামায়াতসহ কয়েকটি দল পোলিং এজেন্ট দিতে পারলেও বেশির ভাগ দলের প্রার্থীরা পোলিং এজেন্ট দিতে পারবেন না।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী): আসনটিতে ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপির ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতি উল্লাহ নূরী, ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লেবার পার্টির মো. আলাউদ্দিন, খেলাফত মজলিসের নাসির উদ্দিন মুনির ও ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মোখতার আহমেদ। আসনটিতে বিএনপি, ইসলামি ফ্রন্ট ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ছাড়া অন্যরা এজেন্ট খুঁজে পাবেন না।
চট্টগ্রাম-৬ (রাঙ্গুনিয়া): আসনটিতে প্রার্থী রয়েছেন চারজন। তারা হলেন- বিএনপির গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান মঞ্জু, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইলিয়াছ নুরী ও গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দিন তালুকদার। আসটিতে তিনটি দল পোলিং এজেন্ট দিতে পারলেও গণসংহতি আন্দোলনের সেই সক্ষমতা নেই।
চট্টগ্রাম-৭ (রাউজান): আসনটিতে প্রার্থী রয়েছেন আটজন। তারা হলেন- বিএনপির হুম্মাম কাদের চৌধুরী, জামায়াতের এপিএম রেজাউল করিম, ইসলামী আন্দোলনের আবদুল্লাহ আল হারুন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরুন বড়ুয়া, ইসলামী ফ্রন্টের ইকবাল হাসান, এবি পার্টির আবদুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের বেলাল উদ্দিন ও জাতীয় পার্টির মেহিদী রাশেদ। এরমধ্যে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী ফ্রন্ট ছাড়া বাকিদের এজেন্ট দেওয়ার সক্ষমতা নেই।
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও): আসনটিতে ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপির এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর ডা. আবু নাসের, ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান (আল আজহারী), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নুরুল আলম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক ও এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ। এখানে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামি ফ্রন্ট ও এনসিপি ছাড়া অন্য দলগুলো পোলিং এজেন্ট দিতে পারবে না বলে ধারণা ভোটারদের।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া): এ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ১০ জন। বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান, জামায়াতে ইসলামীর ডা. একেএম ফজলুল হক, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. শফিউদ্দিন কবির, ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন, জনতার দলের প্রার্থী হায়দার আলী চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস শুক্কুর, জেএসপির আবদুল মোমেন চৌধুরী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ। এই আসনেও প্রধান তিন-চারটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছাড়া বাকি প্রার্থীর পক্ষে পোলিং এজেন্ট দেওয়া সম্ভব হবে না।
চট্টগ্রাম-১০ (খুলশি-হালিশহর): আসনটিতে ৯ জন প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপির সাঈদ আল নোমান, জামায়াতে ইসলামীর শামসুজ্জামান হেলালী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আসমা আক্তার, ইসলামিক ফ্রন্টের লিয়াকত আলী, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জান্নাতুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের সাবিনা খাতুন, জাতীয় পার্টির এমদাদ হোসাইন চৌধুরী, লেবার পার্টির ওসমান গনি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আরমান আলী। এই আসনেও ৪ জন প্রার্থী ছাড়া বাকি প্রার্থীরা খুঁজে পাবেন না পোলিং এজেন্ট।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা): আসনটিতে প্রার্থী রয়েছেন ১১ জন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিউল আলম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) দীপা মজুমদার, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু তাহের, গণফোরামের প্রার্থী উজ্জল ভৌমিক, ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী মুহাম্মদ আবু তাহের, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী মো. নিজামুল হক আল কাদেরী ও ইনসায়িত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আজিজ মিয়া। বিএনপি, জামায়াত, ইসলামিক ফ্রন্ট প্রার্থী ছাড়া অন্য দলের প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট দেওয়ার সক্ষমতা নেই।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া): আসনটিতে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপির এনামুল হক এনাম, জামায়াতে ইসলামীর ডা. ফরিদুল আলম (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু (মোমবাতি) ছাড়া বাকি প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট দেওয়ার সক্ষমতা নেই।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসন: আসনটিতে সাতজন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম, জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ ইমরান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুর রব চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মোহাম্মদ এমরান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মু. রেজাউল মোস্তফা। বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী ফ্রন্ট ছাড়া অন্য দলগুলোর পোলিং এজেন্ট দেওয়ার মতো নেতাকর্মী বা অনুসারী নেই বললেই চলে।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া): আসনটিতে প্রার্থী রয়েছেন ৮ জন। তারা হলেন- বিএনপির জসিম উদ্দীন আহমেদ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মাওলানা মো. সোলাইমান ফারুকী, এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুক, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ বাদশা মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এইচ এম ইলিয়াছ। এখানে বিএনপি, এলডিপি ও ইসলামী ফ্রন্ট ছাড়া বেশিরভাগ দলের প্রার্থীরা পোলিং এজেন্ট দিতে পারবে না বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক): আসনটিতে প্রার্থী রয়েছেন মাত্র তিনজন। জামায়াতে ইসলামীর শাহাজাহান চৌধুরী, বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): আসনটিতে সাতজন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর জহিরুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবদুল মালেক, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হক, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এহসানুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ রুহুল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী।
আসনটিতে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামিক ফ্রন্ট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী লেয়াকত ছাড়া অন্যদের প্রত্যেকটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৮:৪০ ৩০ বার পঠিত