
পাকিস্তানসহ আটটি মুসলিম দেশ সোমবার সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিম তীরে ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতির লক্ষ্য হলো অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি ‘নতুন আইনি ও প্রশাসনিক বাস্তবতা’ চাপিয়ে দেয়া। সোমবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরাইলের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে ‘অবৈধ দখলদারিত্বকে দ্রুততর করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণকে উচ্ছেদের প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।
পাকিস্তান পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।
এর আগে রোববার ইসরাইলের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা একাধিক পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। ফলে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা সহজ হবে এবং একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের প্রয়োগক্ষমতা আরও বাড়বে। আবার এতে সমর্থন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও। ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজের বক্তব্য উদ্ধৃত করে দেশটির অনলাইন ইয়োনেট ও হারেৎজ জানায়, এসব ব্যবস্থার মধ্যে এমন বহু দশক পুরোনো বিধিনিষেধ বাতিলের সিদ্ধান্ত রয়েছে, যা পশ্চিম তীরে ইহুদি বেসরকারি নাগরিকদের জমি কেনা থেকে বিরত রাখত।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, এই নতুন পদক্ষেপগুলো বিপজ্জনক, অবৈধ এবং কার্যত ভূখণ্ড সংযুক্তিকরণের সমতুল্য। যৌথ বিবৃতিতে আট মুসলিম দেশ সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিম তীরে ইসরাইলের চলমান সম্প্রসারণবাদী নীতি ওই অঞ্চলে সহিংসতা ও সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরাইলের এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এতে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা এসব কর্মকাণ্ডকে আখ্যা দেন, ৪ঠা জুন ১৯৬৭ সালের সীমারেখা অনুযায়ী, অধিকৃত জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ফিলিস্তিনি জনগণের অখণ্ড অধিকার-এর ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ন করছে এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে গৃহীত এসব অবৈধ ব্যবস্থা আইনগতভাবে বাতিল ও অকার্যকর। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, ইসরাইলের এই নীতিগুলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন প্রস্তাবের, বিশেষ করে প্রস্তাব ২৩৩৪-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ওই প্রস্তাবে ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে পূর্ব জেরুজালেমসহ জনসংখ্যাগত কাঠামো পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নেয়া সব ইসরাইলি পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ২০২৪ সালের উপদেষ্টা মতামতে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের নীতি ও কার্যক্রম এবং সেখানে তাদের অব্যাহত উপস্থিতিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন তাদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করে এবং অধিকৃত এলাকায় ইসরাইলের বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি ও দেশটির কর্মকর্তাদের উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বৈধ অধিকার বাস্তবায়নই এই অঞ্চলে ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:০০:৩৬ ৫৯ বার পঠিত