
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে তারা ‘অটল ও কঠোর’ প্রতিক্রিয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও গ্রিনল্যান্ডকে দখলে অনড় অবস্থানে। তিনি বলেছেন, পিছু হটার কোনো উপায় নেই। স্বায়ত্তশাসিত ড্যানিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি ডাভোসে বৈঠক করতে প্রস্তুত। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) যোগ দিতে রওনা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, তিনি কতদূর যেতে প্রস্তুত। জবাবে ট্রাম্প শুধু বলেন, আপনারা দেখবেন। ডাভোসে নির্ধারিত বৈঠকগুলোর কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমাদের অনেক বৈঠক রয়েছে, আর আমার মনে হয় বিষয়গুলো বেশ ভালোভাবেই এগোবে।
সুইস স্কি রিসোর্টে এই বৈশ্বিক সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা আমেরিকা ফার্স্ট নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেন। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র ৫৭ হাজার জনসংখ্যার এই অঞ্চলের মানুষকে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ইউরোপের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দিয়ে সতর্ক করেন, ট্রাম্পের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ককে নিম্নমুখী সর্পিললতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন ইউরোপকে অধীনস্থ করার যেকোনো মার্কিন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন এবং গ্রিনল্যান্ড পরিকল্পনার বিরোধিতা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকিকে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দেন।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, এখানে আর পিছু হটার সুযোগ নেই- এ বিষয়ে সবাই একমত!আজ বুধবার ডাভোসে বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অভিজাতদের সমাবেশে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি তুলে তিনি ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক জোটকেই এক বড় পরীক্ষার মুখে ফেলেছেন। ইউরোপ এখন পাল্টা ব্যবস্থার কথা ভাবছে, বিশেষ করে ট্রাম্প যখন আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন সতর্ক করে বলেছে, প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ অবিবেচক হবে।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক ইউরোপীয় দেশগুলোকে বলেন, প্রতিশোধমূলক শুল্কের হুমকির বিষয়ে যেন তারা চাপ ও উত্তেজনা কম রাখে। ডাভোসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দূত জেমিসন গ্রিয়ারও সাংবাদিকদের বলেন, ইউরোপ যদি তাদের ‘বাজুকা’ ধরনের বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। ভন ডার লিয়েন মার্কিন শুল্ক আরোপকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ এমন এক প্রতিক্রিয়ার শৃঙ্খল তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ইউরোপের প্রতিপক্ষদেরই লাভবান করবে। তিনি বলেন, তাই আমাদের প্রতিক্রিয়া হবে অটল, ঐক্যবদ্ধ এবং সমানুপাতিক।
বাংলাদেশ সময়: ২০:২৩:০৬ ৪৭ বার পঠিত