মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিতে ইউরোপীয় নেতাদের কড়া নিন্দা, সমালোচনা

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিতে ইউরোপীয় নেতাদের কড়া নিন্দা, সমালোচনা
রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬



গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিতে ইউরোপীয় নেতাদের কড়া নিন্দা, সমালোচনা

বৃটেন, ফ্রান্সসহ ইউরোপিয়ান মোট আটটি দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপের বিভিন্ন নেতা। গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করা আট মিত্র দেশের এই শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এ পদক্ষেপকে ‘পুরোপুরি ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, বৃটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। পরে তা বেড়ে ২৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড কিনে নেয়ার বিষয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

ট্রাম্প দাবি করছেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এটিকে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে আয়ত্তে নেয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। ট্রাম্পের হুমকির পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোববার ব্রাসেলস সময় বিকেল ৫টায় জরুরি বৈঠক ডেকেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, বৈঠকে ইইউর ২৭ দেশের রাষ্ট্রদূতরা অংশ নেবেন। এদিকে শনিবার গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে হাজার হাজার মানুষ মার্কিন দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে।

এর আগে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ওই ভূখণ্ড ‘সহজ পথে বা কঠিন পথে’ পাবে- যা ক্রয় অথবা বলপ্রয়োগের ইঙ্গিত বলে ধরা হচ্ছে। এ অবস্থায় ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের অন্যান্য দেশও। তাদের যুক্তি, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর যৌথ দায়িত্ব হওয়া উচিত। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও বৃটেন ইতিমধ্যে ‘রেকনিসান্স মিশন’-এর অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডে অল্পসংখ্যক সেনা পাঠিয়েছে।

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, ‘ন্যাটো মিত্রদের সম্মিলিত নিরাপত্তা রক্ষার কারণে তাদের ওপর শুল্ক আরোপ সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত। আমরা অবশ্যই বিষয়টি সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে তুলব।’ বৃটেনের বিরোধী দলীয় নেতারাও ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক একে ‘ভয়াবহ ধারণা’ বলেছেন। রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ মন্তব্য করেছেন, এই শুল্ক ‘আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে’। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন বলেন, এই প্রেক্ষাপটে শুল্কের হুমকি অগ্রহণযোগ্য। কোনো ধরনের ভীতি প্রদর্শনে আমরা নতি স্বীকার করব না। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, আমরা ব্ল্যাকমেইলের কাছে মাথা নত করব না। তিনি আরও জানান, যৌথ প্রতিক্রিয়া নির্ধারণে সুইডেন ইইউভুক্ত দেশগুলো, নরওয়ে ও বৃটেনের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালাচ্ছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এক্সে লিখেছেন, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি। শুল্ক আরোপ ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং বিপজ্জনক নিম্নমুখী চক্রের ঝুঁকি তৈরি করবে। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস মন্তব্য করেন, ট্রাম্পের ঘোষণায় চীন ও রাশিয়া নিশ্চয়ই উল্লাস করছে। কারণ মিত্রদের মধ্যে বিভাজনেই তাদের লাভ। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবসময় আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় দৃঢ় থাকবে- যার শুরুই হয় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ড থেকে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানান, এই হুমকি তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ধাক্কা হয়ে এসেছে।

এদিকে জার্মান এমইপি ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের রক্ষণশীল ইপিপি গ্রুপের প্রধান মানফ্রেড ভেবার বলেছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপ গত বছর আলোচিত ইইউ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ব্রাসেলস ও ওয়াশিংটন একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল, যেখানে ইইউর সব পণ্যে ১৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপ এবং নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন পণ্যে শূন্য শতাংশ শুল্কে বাজার উন্মুক্ত করার কথা ছিল। ভেবার এক্সে লিখেছেন, ইপিপি ইইউ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে। কিন্তু গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির প্রেক্ষিতে এখন এর অনুমোদন সম্ভব নয়। মার্কিন পণ্যে শূন্য শতাংশ শুল্কের সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৫০:৩৪   ৫৫ বার পঠিত