মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আফগান তালেবান সরকার ও ভারতের প্রতি পাকিস্তান সেনাপ্রধানের কঠোর বার্তা

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » আফগান তালেবান সরকার ও ভারতের প্রতি পাকিস্তান সেনাপ্রধানের কঠোর বার্তা
শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫



আফগান তালেবান সরকার ও ভারতের প্রতি পাকিস্তান সেনাপ্রধানের কঠোর বার্তা

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসিম মুনির তালেবান সরকারকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, আফগান মাটিকে ব্যবহার করে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালানো ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শনিবার অ্যাবোটাবাদের পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি (পিএমএ) কাকুল-এ একটি পাসিং আউট প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি আফগান জনগণকে আহ্বান জানান, সহিংসতা নয়, শান্তি ও পারস্পরিক নিরাপত্তার পথ বেছে নিন। আফগানিস্তানের মাটিতে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তালেবান সরকারের দৃঢ় ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া এখন অপরিহার্য।

কারণ এই প্রক্সি নেটওয়ার্কগুলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে। তিনি নবীন অফিসারদের উদ্দেশে বলেন, সৃষ্টির পর থেকেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সীমান্ত রক্ষায় অবিচল ভূমিকা পালন করছে। জাতির পূর্ণ সমর্থনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পেশাদারিত্ব, দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ভারতের আগ্রাসনের মুখে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিজয় স্মরণ করে সেনাপ্রধান বলেন, আমাদের বাহিনী আবারও জিতেছে এক বিশ্বাসঘাতক ও বিভ্রান্ত শত্রুর বিরুদ্ধে, যার কূটনৈতিক অন্ধত্ব ও ভ্রান্ত আধিপত্যবাদী মনোভাব তার পতন ডেকে এনেছে। তিনি উল্লেখ করেন, মে মাসে পরিচালিত অপারেশন বুনিয়ান-উল-মারসুস জনগণের মধ্যে সেনাবাহিনীর দক্ষতা ও সামর্থ্যের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করেছে। তার ভাষায়, পাকিস্তান শত্রুর সব হুমকি মোকাবিলা করেছে অসাধারণ পেশাদারিত্বে।

আমরা প্রমাণ করেছি, দেশ রক্ষায় আমরা প্রস্তুত। উন্নত রাফাল যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো, এস-৪০০ ঘাঁটিসহ একাধিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা এবং বহুমাত্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা প্রদর্শন তারই উদাহরণ। ভারতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভারত সবসময় দোষারোপের রাজনীতি চালায়। স্বাধীন তদন্ত এড়িয়ে চলে এবং নিজের স্বার্থে সাজানো প্রমাণ উপস্থাপন করে। এটা সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রমাণ। আমাদের বিজয় কেবল সামরিক নয়, এটি জাতীয় ঐক্য ও মনোবলের প্রতীক। যুবসমাজের মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতি অগাধ আস্থা জন্মেছে যে, তারা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল স্তম্ভ।

শেষে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আল্লাহর রহমতে ও জনগণের সমর্থনে পাকিস্তান তার পবিত্র ভূমির এক ইঞ্চিও হারাবে না। ভারতের উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে ফিল্ড মার্শাল মুনির বলেন, একটি পারমাণবিক বাস্তবতায় যুদ্ধের কোনো স্থান নেই। কিন্তু যদি শত্রুতা উসকে দেওয়া হয়, পাকিস্তানের যুদ্ধঅভিজ্ঞ বাহিনী এমনভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে যা শত্রুর কল্পনার অনেক বাইরে। তিনি বলেন, আমাদের সেনাবাহিনী দুই দশক ধরে অপ্রচলিত যুদ্ধে লড়াই করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

এখন আমরা প্রচলিত ক্ষেত্রেও সমান দক্ষতা দেখিয়েছি শত্রুকে দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলকভাবে পরাজিত করে। তার মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ ও যোগাযোগের সীমারেখা প্রায় মুছে গেছে। তিনি বলেন, আমাদের অস্ত্রব্যবস্থার প্রসার ও বিধ্বংসী ক্ষমতা ভারতের ভৌগোলিক বিশালতার ভ্রান্ত নিরাপত্তাবোধকে চূর্ণ করবে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে জনগণের সমর্থন তুলে ধরে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিশেষ করে খাইবার পখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানের জনগণের সহায়তায়, আমরা ভারতসমর্থিত সন্ত্রাসবাদের এই অভিশাপ নিশ্চিহ্ন করব।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৩:২৪   ১১৭ বার পঠিত