খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন নয়ানী গ্রামের গৃহবধূ ঊর্মিলা মণ্ডল একসময় লোনাপানিতে বুকসমান কাদা ও পানিতে নেমে চিংড়ির পোনা ধরতেন। অভাবের সংসারে নিত্যসঙ্গী ছিল দারিদ্র্য। খুলনা বিএল কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করলেও শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় তিনি হতাশ না হয়ে নতুন পথে পা বাড়ান। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণের সহায়তায় মোমবাতি তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি এখন নিজের বাড়িতেই রঙিন ও সুগন্ধি মোমবাতি তৈরি করছেন।
আগে নিয়মিত এই জাল নিয়ে নদীতে নামতাম চিংড়ির পোনা ধরতে। বুকসমান কাদা আর লোনাপানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল টানতে হতো।
সয়া ওয়াক্স, প্যারাফিন ওয়াক্স ও প্রাকৃতিক মৌ মোম ব্যবহার করে তিনি এই মোমবাতি তৈরি করেন। তাঁর এই উদ্যোগের ফলে সংসারের অভাব দূর হওয়ার পাশাপাশি তিনি স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংস্থা তাঁর কাছ থেকে ২০০টি মোমবাতি কিনেছে। ঊর্মিলার এই সাফল্যে স্থানীয়রা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং তিনি ভবিষ্যতে অন্য নারীদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মণি শঙ্কর রায় জানান, উপকূলীয় এলাকায় নারীদের কাজের সুযোগ সীমিত হওয়ায় ঊর্মিলার মতো উদ্যোগ আরও অনেক নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে।
বাংলাদেশ সময়: ১০:০৬:৩০ ২ বার পঠিত #উদ্যোক্তা #খুলনা #নারী উন্নয়ন #মোমবাতি #সুন্দরবন #স্বাবলম্বী