জয়পুরহাটের কালাইয়ে কিডনি বেচাকেনা চক্রের দৌরাত্ম্য থামছে না। গত ১৫ বছরে এ সংক্রান্ত ১৭টি মামলার নথি পাওয়া গেলেও একটি মামলারও বিচার শেষ হয়নি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলার পর আসামিরা গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।
১৭টি মামলার আসামি দেড় শতাধিক। তাঁদের কয়েকজন এখনো কারাগারে, অনেকে জামিনে, আবার অনেকে পলাতক। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, দালালেরা অভাবী ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কিডনি বিক্রিতে প্রলুব্ধ করেন। আগে এই চক্র ভারত ও নেপালে নিয়ে কিডনি অপসারণ করলেও এখন পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী মন্টু মিয়া জানান, সংসারের অভাবের চাপে তিনি কিডনি বিক্রিতে রাজি হয়েছিলেন, কিন্তু চুক্তির টাকা না পেয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন। জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম জানান, পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ প্রতারকদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে স্থানীয় আইনজীবী নাফিৎজ্জামান তালুকদার জানান, দরিদ্র পরিবারের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে চলা এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ সময়: ৮:০৫:৫২ ৯ বার পঠিত #অপরাধ #কালাই #কিডনি বেচাকেনা #জয়পুরহাট #প্রতারণা #মানব পাচার #মামলা