বিচারপতিকে বিদায় সংবর্ধনা বিচারক সংকটে আপিল বিভাগে মামলাজট

প্রথম পাতা » সুপ্রিমকোর্ট » বিচারপতিকে বিদায় সংবর্ধনা বিচারক সংকটে আপিল বিভাগে মামলাজট
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬



বিচারপতিকে বিদায় সংবর্ধনা বিচারক সংকটে আপিল বিভাগে মামলাজট

বিচারক সংকটে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। সবশেষ মঙ্গলবার অবসরে যান বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম। ওইদিন অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রধান বিচারপতিসহ মাত্র চারজন বিচারপতি দিয়ে চলছে আপিল বিভাগ। এমন পরিস্থিতিতে মামলাজট আরও বৃদ্ধির শঙ্কা দেখা দিয়েছে, বাড়ছে উদ্বেগ। বর্তমানে ৩৮ হাজারের বেশি মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধীন। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ২১ হাজার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে অন্তত দুটি বেঞ্চ গঠন করা দরকার। আর এটি করতে হলে আরও বিচারক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

আপিল বিভাগের ৬ জন বিচারপতি দিয়ে বছর শুরু হয়। ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় ২৮ ফেব্রুয়ারি অবসরে যান বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ছাড়া আপিল বিভাগের তিন বিচারপতি হলেন মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এসএম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। প্রধান বিচারপতি অবসরে যাবেন ২০২৮ সালের ১৭ মে। এর আগে আপিল বিভাগে সর্বোচ্চ ১১ জন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। সংখ্যা কমলেও অধিকাংশ সময় আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চে একযোগে বিচারকাজ পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিচারপতি স্বল্পতার কারণে দুটি বেঞ্চ গঠন করতে পারছেন না প্রধান বিচারপতি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট ২৫ জনকে এবং ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর ২৩ জনকে হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর আর হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

সংবিধানের ৯৫নং অনুচ্ছেদে সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগের পদ্ধতি ও যোগ্যতার কথা বলা আছে। সে অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে সুপ্রিমকোর্টের অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগ দেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আপিল বিভাগের মামলাজট কমাতে দ্রুত আরও অন্তত ৮ জন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। আইনজীবীরা বলছেন, আপিল বিভাগ হচ্ছে সর্বোচ্চ আদালত। এখানে গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতে বিচারক সংকট রাখা ঠিক নয়। আপিল বিভাগে জমে থাকা মামলা নিষ্পত্তিতে দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও ফৌজদারি বিশেষজ্ঞ এসএম শাহজাহান গণমাধ্যমকে বলেন, হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সগুলো সিরিয়ালি শুনানি হয়। কিছু ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি হয়ে থাকে। বর্তমানে বিপুলসংখ্যক আপিল শুনানির অপেক্ষায়। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মো. খসরুজ্জামান বলেন, আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এসব মামলা বিচারিক আদালত শেষে এখন সুপ্রিমকোর্টে বিচারাধীন। রাষ্ট্রপক্ষকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক বলেন, চাঞ্চল্যকর বেশ কিছু মামলা শুনানির অপেক্ষায় আছে। এগুলো শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সম্প্রতি আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, ৮৭১ আদালত এবং ২৩২টি বিচারকের পদ সৃজন করা হয়েছে। আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃজন প্রক্রিয়াধীন। নতুন ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের কার্যক্রম চলমান। মামলার জট নিরসনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

৮ বছর ধরে সাত খুন মামলা আপিল বিভাগে : নারায়ণগঞ্জে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাত খুনের মামলার রায় বিচারিক আদালতে ঘোষিত হয় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি। রায়ে সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, র ্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ ও র ্যাবের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে সাজা দেওয়া হয়। উচ্চ আদালত ২০১৮ সালের ২২ আগস্ট ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখেন। আট বছর ধরে মামলাটি আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আটকে আছে। শুধু এ মামলা নয়, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিদের আপিলসহ অর্ধশতাধিক চাঞ্চল্যকর মামলা সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে।

তথ্য বলছে, বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ঠেকেছে ৩৮ হাজার ৯৭৩টিতে। হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন মামলা ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৫১৬টি, যা ২০১৯ সালে ছিল ৫ লাখ ৬ হাজার ৬৬৪টি। হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে ১২১৯টি ডেথ রেফারেন্স, যা ২০১৯ সালে ছিল ৭৭৫টি।

বিচারকের আসন থেকে বিদায় নিচ্ছি, ন্যায়ের আদর্শ থেকে নয় : বিদায়ি সংবর্ধনার জবাবে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম বলেন, আমি আজ বিদায় নিচ্ছি বিচারকের আসন থেকে, কিন্তু ন্যায়ের আদর্শ থেকে নয়। সংবিধানের প্রতি আমার আনুগত্য, আইনের শাসনের প্রতি আমার বিশ্বাস এবং এই মহান প্রজাতন্ত্রের প্রতি আমার অঙ্গীকার আজীবন অক্ষুণ্ন থাকবে।

তিনি বলেন, আজ আমার বিচারিক জীবনের একটি বিশেষ দিন। বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টে দুই দশকেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর আজ আমি অবসর নিচ্ছি। ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসাবে শপথ নেন। সংবর্ধনা সভায় অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও সুপ্রিমকোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন বক্তব্য দেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের বিচারপতি ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১:১২:৪১   ৩ বার পঠিত  




সুপ্রিমকোর্ট’র আরও খবর


পিরোজপুরে ঝর্ণা হত্যা : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাইকোর্টে খালাস
বিচারপতিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন চাকরি হারালেন সুপ্রিম কোর্টের সেই সহকারী রেজিস্ট্রার
বিচারপতিকে বিদায় সংবর্ধনা বিচারক সংকটে আপিল বিভাগে মামলাজট
অবসরে গেলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম
বিলম্বিত দেনমোহরের মূল্যায়ন ও আদায়ে নীতিমালা চেয়ে হাইকোর্টের রুল
নারীর মরদেহের পোস্টমর্টেমে নারী ডোম নিয়োগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট
২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা
জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সুপ্রিম কোর্ট আধাবেলা বন্ধ
চট্টগ্রামের সারোয়ার আলমগীর এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন: হাইকোর্ট
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা ফিরল

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ