পিরোজপুরে ঝর্ণা হত্যা : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাইকোর্টে খালাস

প্রথম পাতা » সুপ্রিমকোর্ট » পিরোজপুরে ঝর্ণা হত্যা : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাইকোর্টে খালাস
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬



পিরোজপুরে ঝর্ণা হত্যা : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাইকোর্টে খালাস

পিরোজপুরের ঝর্ণা রাণী দেউরীকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া একমাত্র আসামি লিটন মণ্ডলকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধে মৃত্যুর কথা বলা হলেও মরদেহ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আইনি দুর্বলতা ছিল। ভিকটিমের বাবা সরাসরি মরদেহ না দেখেই থানায় কেবল কাপড়চোপড় এবং পুলিশের দেখানো একটি ছবির ওপর ভিত্তি করে মেয়েকে শনাক্ত করেন। শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত ওই ছবিটি নিম্ন আদালতের নথিতে (এলসিআর) সংযুক্ত ছিল না।

আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত আসামিকে খালাস দিয়েছেন।

২০১৯ সালের ২৭ জুন পিরোজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মিজানুর রহমান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে পলাতক আসামি লিটন মণ্ডলকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭ ধারা তৎসহ দণ্ডবিধির ৩০২/২০১ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রতন দেউরী, রণজিৎ হাওলাদার এবং বিপুল শাখারী নামের অপর তিন আসামিকে খালাস দেয় বিচারিক আদালত।

আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ১২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভিকটিম ঝর্ণা রাণী দেউরী রামচন্দ্রপুর শাহ মাহামুদিয়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী ছিলেন। ২০০৯ সালের ২৪ মে তার বাবা সুভাষ চন্দ্র দেউরী নেছারাবাদ থানায় মামলাটি করেন। এজাহারে বলা হয়, প্রতিবেশী লিটন মণ্ডল ঝর্ণাকে উত্ত্যক্ত করতেন এবং বিয়ের প্রস্তাব দিলে পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে।

২০০৯ সালের ১৪ মে বাগেরহাটের কচুয়া থানার আন্দার মানিক গ্রামে বড় বোনের বাড়ি থেকে ফেরার পথে ঝর্ণা নিখোঁজ হন।

ওই দিনই স্বরূপকাঠি কৌরিখাড়া খেয়ার ট্রলারে লিটন ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ঝর্ণাকে দেখতে পান সুমন দেউরী নামের এক সাক্ষী। পরে ১৭ মে পত্রিকায় বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের খবর দেখে ভিকটিমের বাবা থানায় গিয়ে পরিধেয় বস্ত্র দেখে তা ঝর্ণার মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।

বাংলাদেশ সময়: ২২:০৭:২০   ৭৪ বার পঠিত  




সুপ্রিমকোর্ট’র আরও খবর


সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পেলেন এম. মনিরুজ্জামান
১০ কার্যদিবসে অর্ধ লাখেরও বেশি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি হাইকোর্ট বিভাগের
নির্দিষ্ট মামলা না থাকলে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ নয়, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত
দুই মামলায় জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন
পাউরুটিতে ক্যান্সারের উপাদান পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধে রিট
যানবাহনের ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের নির্দেশ নয় কেন, হাইকোর্টের রুল
ওসমান হাদি হত্যা মামলা: আসামি ফয়সালের স্ত্রীর জামিন নামঞ্জুর
এমএফএসের ‘অতিরিক্ত’ সার্ভিস চার্জের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
রাজধানীর বাসাবাড়ি থেকে ভ্যানে ময়লা নেওয়ার ফি আদায় বন্ধে রিট
বুধবার হাইকোর্টে মামলার শুনানি বিএফআইইউর তদন্তে ইসলামী ব্যাংক দখল ও শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ